দূষিত ক্যাম্পাস
লোকমান হাফিজ
সবুজ শ্যামল ক্যাম্পাস দেখে মুগ্ধ তাসনুভা। তার চেয়েও বেশি মুগ্ধ হয়েছে গ্রীন এন্ড ক্লিন ক্যাম্পাস দেখে। সে খুবই অবাক হয় এত্তো সুন্দর এবং নামকরা ইউনিভার্সিটিতে চান্স পেয়ে। কারণ সে এর আগে কখনো এত্তো বড় এত্তো সুন্দর ক্যাম্পাস দেখেনি।
তাসনুভা মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে। পড়ালেখা করেছে শহর থেকে অনেক দূরে গ্রামের প্রতিষ্ঠানে। কৃষক বাবার মেয়ে। বাবার গাঁয়ের ঘামের গন্ধ জুড়ানো টাকায় তাসনুভা পড়ালেখা করেছে। তাই সে সবসময়ই খুব মনোযোগ সহকারে পড়েছে যাতে বাবার কষ্টটা কাজে লাগাতে পারে। শহরের অনেক শিক্ষার্থীরাও যে ভার্সিটিতে চান্স পায়না। সে জায়গায় তাসনুভা চান্স পেয়েছে।
শহরে থাকার জায়গা নেই তাই সে ভার্সিটির হলে উঠেছে। ভার্সিটির হলের সবার থেকে তাসনুভা আলাদা। কারন সবারই মেকাপের এবং সাজুগুজুর অভ্যাস আছে। কিন্তু নেই শুধু তাসনুভার। তবে সে এমনিতেই অনেক সুন্দরী। ক্যাম্পাসের অনেক ছেলেই তার পেছনে ঘুরে।
তাসনুভা গ্রামের স্কুল কলেজে এতো ভালো রেজাল্ট করেছে যে ওই স্কুলে বা কলেজে এর আগে কখনই ভালো ফলাফল কেউ করতে পারেনি। তাসনুভা এস.এস.সি তে যখন এ প্লাস পায় তখন তার বাবা বীজ কেনার জন্য কিছু টাকা জমিয়েছিলেন। মেয়ের ফলাফলের কারণে তিনি এতো খুশি হয়েছিলেন যে, ওই বীজের টাকা দিয়ে পাড়া প্রতিবেশী সবাইকে মিষ্টি খাইয়ালেন।
সে যেদিন ভার্সিটির হলে চলে আসবে সেদিন নৌকা দিয়ে অনেকেই এসেছিলেন তাকে দেখতে।কারো কারো মন খারাপ হয়েছিলো। কারণ তাসনুভার মতো মেধাবী মেয়ে তাদের সন্তানকে আর পড়াতে পারবেনা।আবার কারো কারো ভালোই লেগেছিলো এলাকার একটি মেয়ে শিক্ষিত হয়ে সুনাম কুড়াবে এটা ভেবে।
তাসনুভা একদিন ক্যাম্পাসে দেখে একটি ছেলে তার দিকে তাকিয়ে আছে। সে এটা দেখেও না দেখার ভান করে ক্লাসে চলে যায়। কিন্তু ছেলেটিও ক্লাসের বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। ক্লাস শেষ হওয়ার পর ছেলেটি তাসনুভার পিছু নেয়। প্রায় কয়েকদিন এমন করার পর একদিন সে তাসনুভাকে এসে বলে,
-তোমাকে আমার ভালো লাগে।
-তো আমি কি করতে পারি।
-তুমি আমাকে ভালোবাসতে পারো।
-এটা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। এটা কক্ষনও হবেনা। আমার জীবন আর সবার জীবন এক নয়।
-তুমি আমাকে চেনোনা, আমার কথা অমান্য করোনা। এটা তোমার জন্য ভালো হবেনা। এই ক্যাম্পাসে এমন কেউ নেই যে আমার কথা রাখেনা। বলেই তাসনুভার ওড়না ধরে টান দেয়। সাথে সাথে তাসনুভা ঠাস করে একটি চড় দেয়।
-তুমি আমাকে চড় মেরেছো, এটা অনেক করে ফেলেছ। এই ক্যাম্পাসের কেও কোনোদিনও আমার গায়ে টাচ পর্যন্ত করতে পারেনি আর তুমি...
এর পরিনাম ভালো হবে না।
তাসনুভা হলে চলে যায়। সে তার রুটিন মতোই তার পড়াশোনা চালায়। গ্রীন ক্যাম্পাস আজকে তার কাছে কেমন যেনো দূষিত ক্যাম্পাস মনে হচ্ছে। রাজনৈতিক শক্তি পেয়ে কিছু ছেলের এমন ভাব জমেছে মনে হচ্ছে তারা ক্যাম্পাসের মালিক হয়ে গেছে। ক্যাম্পাসে যা ইচ্ছে তাই করে বেড়ায়। এমন কি শিক্ষকদেরকেও মানে না।
কিছু দিন পর পত্রিকায় একটি ছবিসহ লেখা প্রকাশ হয়। তাসনুভা নামক ভার্সিটির ছাত্রীকে গণধর্ষন করে হত্যা করা হয়েছে।


Post a Comment
Please do not enter any spam link in the comment box.