Bristi shesey short story-4

Bristi shesey short story in bengali-4

বৃষ্টি শেষে-৪...
          এম রাকিব 
পর্ব-৪,  👉 পর্ব-১
হিমেল কলেজে যায় একা একা ভালো লাগে না নিশি কে না দেখে। ওর মন সারাক্ষণ নিশি জন্য ব্যাকুল হয়ে থাকে। কথা বলার জন্য কল করে হিমেল। রিং হচ্ছে কেউ তুলে না। দ্বিতীয় বার কল করে না এবার ও কেউ তুললো না। হিমেলের মন ক্ষুণ্ণ হয়। হতাশায় ভর করে হিমেলের মনের উপর। কি করবে কিছুই বুঝতে পারছে না। তিথীর সাথে দেখা হলো।

-কেমন আছ তিথী?
-ভালো। আপনি কেমন আছেন হিমেল ভাই?
-হুম ভালো। ক্ষুন্ন মন নিয়ে বললো।
-কিছু হয়েছে হিমেল ভাই?
-না কিছু হয়নি।
-তাহলে এমন মন মরা হয়ে আছেন যে?
-আসলে নিশির কোন খোজ পাচ্ছি না তাই একটু চিন্তিত।
-হ্যাঁ আমার সাথেও বেশকিছু দিন হয় দেখা হয় না যোগাযোগ হয় না।
-তোমার সাথে কোন যোগাযোগ নেই? অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল হিমেল।
-হ্যাঁ।
-তুমি ত ওর বেষ্ট ফ্রেন্ড তোমার সাথেও হয় না। সে কেমন কথা?
-কেনো আপনার সাথে কথা হয় না?
-না। কদিন আগে হয়েছিল।
-ও আচ্ছা। আমি আসি হিমেল ভাই। আমার একটু তাড়া আছে। পরে কথা হবে। তিথী মাথা নিচু করে অন্য মনোষ্ক হয়ে চলে গেলো।

হিমেল লক্ষ্য করল ব্যাপারটা। কিছু বললো না। চিন্তা করছে ও ত কিছু লুকালো না আমার কাছে। না, সেটা হবে কেনো আর লুকানোর কি আছে। তিথী ওমন মেয়ে না। ও আমাকে সম্মান করে কথা বলে।
তাহলে নিশির কোন খোঁজ নেই কেনো কারো কাছে।
আমি কল করি কেউ তুলে না। সব কিছু এলোমেলো লাগছে হিমেলের কাছে।

ভাবছে ওর খালার বাড়ি যাবে কিনা। আবার ভাবছে গেলে কেউ যদি আবার মনে কিছু করে। কিন্তু আমার ত যে করেই হোক নিশি খবর নিতে হবে। তাহলে আগে নিশিদের বাড়ি গিয়ে দেখি খালাম্মার কাছে জিজ্ঞেস করি।

সেদিন বিকেলে হিমেল নিশিদের বাড়ি যায়। কলিং বেল বাজতেই কাজের মেয়ে টা দরজা খুলে।

-ভিতরে আসেন।
-না থাক। খালাম্মা আছেন?
-না তারা ত কেউ নাই বাড়িতে।
-কেউ নেই মানে। কোথায় গিয়েছে তাহলে?
-তারা সবাই গ্রামের বাড়ি গেছে।
-ও আচ্ছা। আমি আসি তাহলে।

হিমেল চলে এলো। হাটছে আর ভাবছে এমন কি হলো যে হঠাৎ করে সবাই গ্রামের বাড়ি চলে গেলো। হিমেল কল করে নিশি কে মোবাইল সুইচ অফ আছে। আরো বেশি চিন্তায় পরে যায়।  কি হলো তাহলে।  এমন ত কখনো হয়নি। এত দিন ফোন তুলেনি এখন আবার সুইচ অফ আসছে। ভাবতে ভাবতে ক্লান্ত মন নিয়ে হিমেল বাড়ি ফিরে। মনের মাঝে কোন স্বস্তি পাচ্ছে না হিমেল। সারাক্ষন বিচলিত হয়ে আছে। নিশির জন্য চিন্তা হচ্ছে।

হিমেলের জানাও নেই নিশিদের গ্রামের বাড়ির ঠিকানা। ও ভাবে কখনো জিজ্ঞেস করা হয়নি। নাওয়া নেই খাওয়া নেই কেমন যেন হয়ে গেলো হিমেল। কলেজে ও ঠিকমত যায় না। এভাবে কেটে গেলো দু মাস।

কোন ভাবেই হিমেল যোগাযোগ করতে পারলো না। ক্ষুন্ন মন নিয়ে নিশির প্রতিক্ষায় করে। হিমেল ভাবতে থাকে নিশি কি কারণে আমার সাথে এভাবে যোগাযোগ বন্ধ করে দিলো। কি দোষ ছিলো আমার। আমরা তো একে অন্য কে ভালবাসতাম। তাহলে কেনো এমন করলো ও।

ঠিক আড়াই মাস পর তিথী আসে হিমেলদের বাড়িতে। তিথী কলিং বেল বাজাতেই হিমেলের মা এসে দরজা খুলে। তিথী কে দেখে বলে কেমন আছো তিথী, ভিতরে আসো।

-না খালাম্মা ভিতরে আসবো না। হিমেল ভাই নেই?
-হ্যাঁ আছেত। ওর রুমে আছে।
-হিমেল ভাই কত দিন কলেজে যায়নি তাই দেখতে এলাম।
-ও বেশি ভাল নেই। নিশির কোন খোজ পায়নি। কেমন যেন হয়েগেছে ও। তুমি কিছু জানো নাকি কোথায় আছে নিশি?
-না খালাম্মা।

তিথীর মন পাহাড়ের মত ভার হয়ে এলো। চোখের কোনে চকচক করছে পানি। কোন রকম নিজেকে সামলে নিল নিজেকে।

-তুমি বস মা। আমি হিমেল কে ডেকে দিচ্ছি।
-হ্যাঁ খালাম্মা তাই করেন। আমি বসছি।

হিমেলের মা চলে গেলেন হিমেলের রুমে।

হিমেল নিচে যা, তিথী আসছে। আমি তোদের জন্য চা দিচ্ছি।

হিমেল তিথীর কথা শুনে চমকে উঠলো। তিথী এসেছে নিশ্চয়ি নিশির কোন খবর আছে। দেরি না করে হিমেল নিচে চলে আসে।

-কেমন আছো তিথী?
-ভালো।

আর কিছুই জিজ্ঞেস করতে পারে না। হিমেল কে দেখে ও আৎকে উঠে। কি হাল হয়েছে হিমেল ভায়ের। দেখে ত চেনাই যায় না। ওর চোখে পানি ছলছল করছিলো। খুব কষ্টে নিজেকে সামলে নিল।

-নিশির কোন খবর পেলে তিথি?
-না মানে নিশির একটা চিঠি ছিলো আপনার জন্যে। আমি তাই দিতে এলাম।

(চলবে....) 👉 পর্ব -৫


0/Post a Comment/Comments

Please do not enter any spam link in the comment box.

Stay connected

FACEBOOK- Fans Like
TWITTER- Followers Follow
YOUTUBE- Subscribers Subscribe

Subscribe us

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner