short story bristi shesey-3


Short story bristi shesey in bengali-3

বৃষ্টি শেষে-৩....
        এম রাকিব 
পর্ব-৩,  👉 পর্ব-১
হিমেল কলেজে গিয়ে নিশি কে খোঁজছে। কয়েক জনের কাছে জিজ্ঞেস করে কোন খোঁজ পেলো না। নিশির বান্ধবীর সাথে দেখা হয়ে যায়।
-কমেন আছো তিথী?
-ভালো। আপনি কেমন আছেন?
-ভালো। আজ যে নিশিকে দেখছি না কি ব্যাপার?
-আজতো নিশি কলেজে আসেনি। ওকে ত কোথাও দেখলাম না।
-কিন্তু কাল যে বললো আজ দেখা করবে কলেজে।
-আমাকেও বলেছিল ও আসবে। কিন্তু কেন এলো না বুঝতে পারছি না।
-আচ্ছা আমি দেখি। আসি তিথী ভালো থেকো।

হিমেল চিন্তায় পরে গেলো। নিশির কি হলো তাহলে। আজ কলেজে আসলো না। আমাকে আসতে বলে ও আসেনি। মনের মাঝে কেমন জানি উল্টাপাল্টা চিন্তা আসতে থাকে। হিমেল কল করলো নিশি কে। রিং হচ্ছে কিন্তু কেউ উঠাচ্ছে না। দ্বিতীয় বার কল করে হিমেল। নিশি ফোন তুলে।

-কি ব্যাপার বলো ত তোমার কোন খোঁজ নেই কেনো? তুমি না আজ কলেজে আসবে বললে। কোথায় তুমি?
-কাল রাতে ফোন আসে খালার। খালাত বোন রুনা এক্সিডেন্ট করেছে। তাই সকাল সকাল চলে এসেছি তোমাকে জানাতে পারিনি। সরি...
-ও আচ্ছা। তো রুনার কি অবস্থা এখন। ও কেমন আছে?
-হ্যাঁ এখন আছে ভালো। পায়ের হাড় ভেঙেছে। ডাক্তার বলেছে সময় নিবে ঠিক হতে।
-হুম। তুমি কেমন আছো?
-আমি ভাল। তুমি?
-ভালো। কবে আসবে?
-দেখি... পরে জানাবো।
-ঠিক আছে।

হিমেল ফোন রাখলো। মনের মাঝে এখন ভালো লাগছে নিশির সাথে কথা বলে।

এভাবে ফোনার মাঝে কথা বলে দু দিন কেটে গেলো। হঠাৎ করে নিশির সাথে কথা হচ্ছে না হিমেলের। হিমেল কল করে নিশি ফোন তুলে না। চিন্তায় পরে গেলো। কি করবে ভেবে পায় না হিমেল। একদিন নিশিদের বাড়ি গেলো নিশির খোঁজ নিতে। কলিং বেল বাজাতেই নিশির মা দরজা খুললেন।

-কেমন আছেন খালাম্মা?
-ও হিমেল আসো বাবা। আমি ভালো। তুমি কেমন আছো?
-ভালো।
-ভিতরে এসো...বসো। কি ব্যাপার তোমাকে আজ কাল দেখা যায় না। আসো না কেনো?
-না এমনি। কাজে একটু ব্যাস্ত থাকি এই আরকি।
-খালাম্মা নিশি বাড়িতে নেই। ওকে যে দেখছি না। কলেজেও আসে না। কি ব্যাপার? অসুস্থ্য নাকি?
-না তেমন কিছু না। ও তো এখনো আসেনি।
-আসেনি মানে? বুঝলাম না।
-ও যে ওর খালার বাড়ি গেছে তোমাকে জানায় নি?
-হ্যাঁ জানিয়েছিল। আজ কয়েক দিন হলো যোগাযোগ নেই তাই এলাম।
-ও আচ্ছা। তাই বলো। আমি ত ভাবলাম তোমরা আবার ঝগড়াঝাঁটি করলে নাকি।
-আচ্ছা খালাম্মা আমি আসি তাহলে।

হিমেল ক্ষুণ্ণ মন নিয়ে উঠে দারায়। নিশির মা দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দেয়।

হিমেল ভেব পাচ্ছে না কি করবে। নিশির সাথে কি ভাবে যোগাযোগ করবে। হিমেল কল করে আবার। রিং হয় কিন্তু কেউ তুলে না। এক বার দু বার কয়েক বার কল করে কিন্তু কেউ ধরে না। ভিষণ চিন্তায় পরে হিমেল। খালাম্মাও তেমন কিছু বললো না। কিছু হলে অবশ্যি সে কিছু বলত। আর তাকে দেখে তেমন কিছু মনে হলো না। স্বাভাবিক ভাবেই কথা বললো। তাহলে নিশির কি হলো? ও ফোন ধরছে না কেনো?

এভাবে আরো দু দিন কেটে গেলো। নিশির কোন খোজ নেই। হিমেল পাগল হবার উপক্রম হয়েছে। সে ফোন করে আবার। ও পাশ থেকে নিশি ফোন তুলে।

-নিশি তুমি কেমন আছো? কোথায় তুমি? কোন খোঁজ নেই? কি হয়েছে তোমার?
-আমার আবার কি হবে। আমি খুব ভালো আছি। ভাঁড়ি গলায় কথা গুলি বললো নিশি।
-তোমার কোন খোঁজ নেই যে। কি হয়েছে সত্যি করে বলো আমাকে।
-বললাম তো কিছু হয়নি। আমি ভাল আছি। কদিন খুব ব্যাস্ত আছি তুমি ভেব না।
-তাই বলে যোগাযোগ করবে না এ কেমন কথা?
-বললাম না ব্যাস্ত। তুমি কেমন আছ?
-ভালো থাকি কি করে। তুমি ভালো রাখলে কোথায়?
-বারে আমি আবার কি করলাম।
-কি করলে মানে। কোন যোগাযোগ রাখছ না। কথা বলছ না। কি হয়েছে তোমার?
-কিছুই হয়নি। আচ্ছা রাখি আমি।
-রাখবে মানে? কথাইত বলা হলো না।
-কাজ আছে পরে কথা হবে। নিশি ফোন কেটে দিলো।
(চলবে...) 👉 পর্ব-৪

0/Post a Comment/Comments

Please do not enter any spam link in the comment box.

Stay connected

FACEBOOK- Fans Like
TWITTER- Followers Follow
YOUTUBE- Subscribers Subscribe

Subscribe us

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner