Bristi shesey short story-2

Short story bristi shesey in bengali-2
বৃষ্টি শেষে-২....
               এম রাকিব
পর্ব-২,   👉 পর্ব-১
হিমেল চলে এলো। বাড়িতে এসে অপেক্ষায় আছে কখন সন্ধ্যা হবে। নিশিকে নিয়ে সারাক্ষণ হিমেলের ভাবনা। ওর ভালোবাসায় মুগ্ধ হিমেল। সন্ধ্যার পর হিমেল নিশিদের বাড়ির ছাদে চলে আসে। নিশি আগে থেকেই এসে আছে।
-তুমি এত দেড়ি করে এলে। তুমি সব যায়গায় দেরি করে আসো কেনো? আমি সেই কখন থেকে অপেক্ষায় আছি।
-হিমেল কি বলবে কিছুই বুঝতে পারছেনা। নিশি কে দেখে ও অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। আর ভাবছে কি করে একটা মানুষ এত অপরূপ হয়।

নিশি পরেছে সাদা রঙের শাড়ি আর কালো রঙের ব্লাউজ। চুল ছেড়ে দিয়েছে। লাল টিপ। চোখে কাজল। দু হাত ভরা সাদা লাল মিলিয়ে চুড়ি পরেছে।

-এই তুমি হা করে দারিয়ে আছো কেনো। এদিকে আসো।
-নিশির ডাকে হিমেলের নেশা কাটে। এগিয়ে আসে হিমেল।
-দেখো হিমেল কি সুন্দর আজকের সন্ধ্যাটা। চারপাশ কেমন শীতল হয়ে আছে। কেমন স্তব্ধ।
-হ্যাঁ খুব সুন্দর আজকের সন্ধ্যাটা। তবে তোমার চেয়ে সুন্দর না।
-ধ্যাৎ.... তুমি যে কি বলো না।
-সত্যি নিশি আজ তোমাকে অসাধারণ লাগছে। মনে হচ্ছে বেহেস্তের নূর।

পূর্নিমাতে তুমি নিশিত রাত, চাঁদের জ্যোৎস্না দিয়ে আবরণ করেছো। মনে হয় বেহেস্তের নূর। ইচ্ছে করে ছুঁয়ে দেখি। আবার ভয় হয় যদি অদৃশ্য হয়ে যাও।

-নিশি হেসে বলে তুমি একটা পাগল। কি বলো না বলো।
-নিশি তুমি সব সময় এমনি থেকো। এমন হাসি নিয়ে থেকো। আর আমি সারাটা জীবন তোমাকে ভালোবেসে যাবো।
-হ্যাঁ হয়েছে হয়েছে। এখন এ দিকে আসো আমার পাঁশে এসে বসো।

হিমেল বাধ্য ছেলের মত নিশির পাঁশে গিয়ে বসে।

-হিমেল দেখো আজ চাঁদ টা কি ভালো লাগছে। মাঝে মাঝে মেঘেরা এসে ডেকে দিচ্ছে। কখনো অন্ধকার আবার কখনো জ্যোৎস্না হয়। খুব ভালো লাগছে না?
-আমি যে তোমাকে দেখছি নিশি। আমার এই চোখের ক্ষুধা মিটেনা।
-হুম এটা তোমার রোগ। আর কিছু না।
-যদি রোগই হয় তাহলে এই রোগ যেন আমার সারা জীবন থাকে।
-নিশি হিমেলের হাতটা ওর হাতে নিয়ে হিমেলের চোখের দিকে তাকিয়ে বলে, তুমি আমাকে অনেক ভালোবাস তাই না।
-হ্যাঁ নিশি। খুব ভালোবাসি তোমায়।
-আমিও তোমাকে অনেক ভালবাসি। এই বলে নিশি হিমেলের বা কাদে মাথাটা রাখে।
-হিমেল আলতো করে নিশির কপালে চুমু খায়।
-জানো হিমেল আমি তোমাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখি। দেখি আমাদের সংসার। সেই সংসারে ছোটছোট বাঁচ্চা। ওরা খেলা করছে।
-আমিও দেখি। তোমাকে ঘিরে আমার জীবন। তোমাকে ঘিরে আমার সব। তোমার মাঝে আমার জীবন শুরু আর শেষ।
-তুমিই আমার সব হিমেল। আমার জীবন মরণ।

নিশি এই কথা বলে কেঁদে দেয়। হিমেল ওর দিকে তাকিয়ে বলে এই পাগলি কাঁদছ কেনো। আমি ত আছি সারা জীবন তোমার সাথে।

-হ্যাঁ তুমি এই ভাবে আমার পাশে থেকো সারাটা জীবন। আমি তোমাকে হারাতে চাই না।
-আরে পাগলি আমি ত আছি সারা টা জীবন তোমার পাশে। আমি কি বাঁচবো তোমাকে ছাড়া।
-আচ্ছা হিমেল আমি যদি মরে যাই।  তুমি....

হিমেলের বুকের ভিতর টা কামড় দিয়ে উঠে। মুখটা চেঁপে ধরে নিশির। আর কথা বলতে দেয় না।

-তুমি আর কক্ষন এমন কথা বলবে না। তোমাকে ছাড়া আমি কি করে বাঁচবো?
-আরে পাগল আমি কি সত্যি সত্যি মরে গেলাম নাকি?
-তবুও তুমি এক কথা মুখে আনবে না।

দু জন চুপ করে কিছু সময় বসে থাকে। নিশি হিমেলের কাদে মাথা রেখে ওভাবেই আছে।

-দেখো হিমেল চাঁদ আর মেঘেরা খেলা করছে। থেকে থেকে অন্ধকার আর জ্যোৎস্না হচ্ছে।
-সেই আধার আলোতে আমি তোমাকে দেখছি। যান নিশি আমার মনে হয়, আমি তোমাকে এভাবে দেখে সারা টা জীবন পার করতে পারবো।
-চলো একটু হাটি ছাদের উপর।

দু জনে উঠে দারায়। হিমেল শক্ত করে নিশির হাত ধরে। পাশাপাশি দু জনে ছাদের এ পাশ থেকে ও পাশ হেটে বেড়ায়। এক সময় হিমেল দারিয়ে নিশিকে কাছে টেনে বুকে আঁকড়ে ধরে। নিশিও কোন বাধা দেয় না। নিশি হিমেলের বুকে মাথা রেখে আপন জগতে হারিয়ে যায়। হিমেল গভির ভাবে নিশির কপালে চুমু খায়। দু জনে অনেক্ষন থাকে এভাবে।

-নিশি তোমাকে এভাবে সারাটা জীবন বুকের মাঝে আগলে রাখবো।
-আমিও এভাবে থাকতে চাই বাকি টা জীবন।
আচ্ছা এখন চলো যাই। মা খুঁজতে আসবে। আর এসে যদি দেখে এভাবে আমাদের কি হবে বুঝতে পারছো?
-হু কি আর হবে। দু জন কে বিয়ে করিয়ে দিবে। এই বলে হিমেল হাসে।
-হুম সেটা সময় হলে দেখা যাবে। আচ্ছা চলতো এখন।
-হিমেল শেষ বারে মত নিশির মুখ খানা দু হাতে তুলে ধরে কপালে গভীর চুমু খায়।
-কাল কলেজে দেখা হবে। এখন চলো।
(চলবে.....) 👉 পর্ব-৩

0/Post a Comment/Comments

Please do not enter any spam link in the comment box.

Stay connected

FACEBOOK- Fans Like
TWITTER- Followers Follow
YOUTUBE- Subscribers Subscribe

Subscribe us

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner