বৃষ্টি শেষে-৫...
এম রাকিব
পর্ব-৫ ও শেষ। 👉 পর্ব-১
হিমেল অবাক হয়ে বললো..! চিঠি....!!
-হ্যাঁ।
চিঠি টা হিমেলের হাতে দিয়ে ও উঠে দারায় যাওয়ার জন্য।
-উঠছ যে, বসো। মা চা করে আনছে।
-না আজ আর না। অন্য সময় আমি এখন আসি। আমার তাড়া আছে। খালাম্মা কে বলবেন অন্য সময় আসবো। তিথি বেড় হয়ে আর চোখের পানি ধরে রাখতে পারে না। ওর ইচ্ছে করছে চিৎকার করে কাঁদতে।
হিমেল দ্রত ভাবে উপরে ওর রুমে চলে আসে। মন অস্থির হয়ে আছে কখন চিঠি টা পড়বে। কানোভাবে রুমে এসে চিঠি টা খুলে----
-কেমন আছো তুমি? জানি ভাল নেই। আমার উপর রাগ অভিমান করে আছো তাই না। কি করবো বলো সময়ই পাই না। সময় টা আমার জন্য এত কম পরে গেছে যে তোমাকে কোন কিছু বলতেও পারিনি।
তুমি যখন এই চিঠি টা পড়ছ তখন আমি তোমাকে ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গেছি।
হিমেল এই পর্যন্তই পড়তে পারে। ওর বিশ্বাস হচ্ছে না এই চিঠি নিশি দিয়েছে। মনের মাঝে এত টা ত্রিব যন্ত্রণা হচ্ছে যে বলে বুঝানো যাবে না। হিমেল যেন পাথর হয়ে গেলো। ওর নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। কষ্টের যন্ত্রণায় চোখের পানিও যেন শুখিয়ে গেছে। মনে হচ্ছে ওর শরীরে কোন শক্তি নেই। বিছানার উপর অবচেতন হয়ে বসে পরে। চিঠি টা হাতের মাঝে নেই তবুও মনে হচ্ছে হাতে বিশাল ওজনের কিছু বেধে রখেছে। শরীল থরথর করে কাঁপছে মনে হচ্ছে নিশ্বাস গলা অব্ধি এসে আটকে গেছে। বিছানার উপর শুয়ে পরে হিমেল।
কিছুটা সচেতনা ফিরে আসার পর ভাবছে নিশির তাহলে কি হয়েছিলো? তখন মনে পরে চিঠির কথা। উঠে খোজ করে। দেখে রুমের কোনে পরে আছে। তুলে হাতে নিয়ে আবার পড়ার চেষ্টা করে। -----
-এই শোন কাদবে না কিন্তু। আমার লক্ষিটি আমার কথা শুনো। আমার খালাত বোনে এক্সিডেন্ট করেছিল তখন ওর জন্য রক্তের প্রয়োজন হয়। আমি দিতে যাই তখনই জানি যে আমার ব্লাড কেন্সার। সময় টা নাকি খুব কম ছিলো। আমি নাকি বেশি দিন বাঁচবো না।
আমিই সবাই কে না করেছিলাম তোমাকে না জানাতে। আমিই বলেছি সবাই যেন তোমার সাথে স্বাভাবিক ভাবে কথা বলে। তুমি জানলে তোমার কষ্ট টা আমার সহ্য হতো না। তাই নিষধ করা ছিলো।
আর কি করে আমি তোমার সামনে যেতাম। আমার কাজল চোখে তুমি যে পৃথিবী দেখতে সে কাজল চোখে আর কাজল দিতে হয়নি। তুমি যে চোখ দেখে বলতে ময়ূরাক্ষী। সে চোখর নিচে কালো জমে যায়। যা দেখে তুমি কষ্ট পেতে।
জানো হিমেল আমারও খুব ইচ্ছে ছিলো। স্বপ্ন দেখতাম আমি তোমার ঘরের বউ হয়েছি। আমি তোমার জন্য বউ সেজেছি। কিন্তু তার কিছুই হলো না। আমার স্বপ্ন আর সত্যি হলো না।
বলতে পারো হিমেল আমার সাথে কেন এমন হলো। আমি তো কারো ক্ষতি করিনি কখনো। কারো অমঙ্গল চাইনি। তবে আমার সাথেই কেনো এমন হলো।
ইচ্ছে ছিলো বিয়ের পর দু জনে মিলে ছাদে বসে পূর্ণিমা দেখবো। অমাবস্যায় জোনাকিপোকার আলোতে তুমি আমাকে দেখবে। দু জন দু জনার মাঝে হারিয়ে যাবো।
তুমি কিন্তু ভালো থাকবে। আমিও এপারে ভালো থাকবো। আমার কথা মনে পরলে সেই কাঁঠালচাঁপা ফুল গাছটির নিচে যাবে। আমি সে খানেই থাকবো।
আর বৃষ্টি শেষেও আসবে আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করবো। ধেড়ি করবে না কিন্তু।
আমাকে বিদায় দাও। ভালো থেকো।
তোমার ময়ূরাক্ষী।
---------------------------


Post a Comment
Please do not enter any spam link in the comment box.