Rangila belai short stort- bengali


রঙিলা বিলাই

লিমন আহমেদ লিটন,,













    









  প্রথম পরিচ্ছেদ  -

-       

ছোট কাকু প্রবাসে থাকে

আজ সকালে এয়ারপোর্টে তাকে রিসিভ করতে গেলাম। গিয়ে দেখি। এ মা এ কি ! কাকুর কোলে একটি বাচ্চা। সবাই হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে আছি।

বাচ্চাটা মানুষের হলে তেমন কিছু ভাবার ছিল না বরং এটাই স্বাভাবিক ছিল।  যাদের সন্তান নেই, তারা দত্তক হিসেবে মানুষের বাচ্চাই নিবে, কিন্তু কাকু ঠিক উল্টো কাজ করে বসেছে। সে দত্তক নিয়েছে , একটি বিড়াল। কাকু সন্তানহীন।  

মানুষ যে কবে এই বিড়াল প্রজাতি মানুষের পাশে ঠাই দিয়েছে, হিসেব নিকেশ করে বের করা কঠিন। বাঘ, সিংহ,  নেকড়ের জাত ভাই এ বিড়াল। এর বৈজ্ঞানিক নাম, ‘ফেলিস ক্যাটাস’ কিছুদিন আগে এক জার্নাল লেখায় পড়েছি।

রঙিলা বিলাই” নাম। ও বাবা । নামটাও উচ্চ মার্গের।

কাকু কে নিয়ে বাড়িতে এসে। ফ্রেশ হয়ে খেয়ে দেয়ে ড্রয়িং রুমে বসে আছি। কাকু রঙিলা বিলাই কে নিয়ে একাই এসেছে। কাকিমা আসেনি। আমাদের জন্য সব শপিং করে দিয়েছে কাকিমা। সে পরের বার আসবে।

যা হোক, এক পর্যায়ে কাকু বের করল, রঙিলা বিলাইর জন্য স্বর্ণের চেইন, পায়ের নুপুর, মাথার মুকুট, সে এক এলাহি কাণ্ড। মানুষ তার সন্তানের জন্য কত কি করে। নিজের শেষ সম্বল টুকু উজার করে দেয়। তবুও এই ভেবে সুখ খুঁজে পায় যে তার “আমার সন্তান যেন থাকে দুধেভাতে” একজন কবির কথা। কে যেন কথাটা বলেছে আজ মনে নেই। অন্য কোন দিন বলবো সে কথা। ও মনে পরেছে অন্নদামঙ্গল’ কাব্যে ভারতচন্দ্র রায়।

এই কথা সেই কথা। হঠাৎ-

আমার মনে পরে রঙিলা বিলাইর কথা। অনেকক্ষণ হয়, বেচারাকে দেখছি না। কাকুকে বললাম, কাকু রঙিলা রঙিলার কথা বলতেই, চারদিকে খোঁজারু দৃষ্টি রা রা করছে!  কোথাও নেই। কোথায় গেল? ঘরের সবাই এটা সেটা কত কি বলাবলি করছে।

আমার মাথায় দুষ্টুমি খেলে গেলো। কাকুকে বললাম, ‘কাকু মাইকিং কর’

যেই কথা সেই কাজ। মহল্লায় কাকু নিজেই মাইকিং শুরু করে দিল।

‘একটি বিড়াল মানে আমার সন্তানের মত নাম “রঙিলা বিলাই” হারানো গিয়েছে। ওর গায়ে ছিল সিল্ক মখমলের জামা, গলায় ছিল “রঙিলা বিলাই” খোদাইকৃত লকেট। সন্ধান দাতাকে দেয়া হবে ৫০ হাজার টাকা”

কাকু সন্ধান দাতাকে ৫০ হাজার ?

নারে রাকু। ও আমার সন্তানের মত। আমি ওকে হারাতে চাই না।

আমার ডাকনাম রাকু, পুরো নাম রাজকুমার। আমি ছোট বেলা দেখতে রাজকুমারের মত ছিলাম। ক্লাসের বন্ধুরা আমাকে আদর করে ডাকে আফ্রি। আফ্রিকার লোক দেখতে কালো তাই সংক্ষেপে আফ্রি বলেই ডাকে। আমি অনেক বুদ্ধি করে ‘আফ্রি’র র-ফলা বাদ করে দিয়েছি। এখন ওরা ডাকে আফি, পাড়ার বড়রা আফু বলেও ডাকে। থাক ও সব।

দুদিন ধরে “রঙিলা বিলাই” হারিয়েছে। এদিকে ছোট কাকুর নাওয়া খাওয়া নাই।

কোথা থেকে খবর আসলো। কে যেন দেখেছে। দু মহল্লা পরে এক ডাস্টবিনে।

সবাই গেলাম। দেখে অবাক বনে গেলাম। যার জন্য কাকুর এত কিছু সে ডাস্টবিনে কি খুচ্ছে? একেবারে সাদামাটা, জামা, লকেট কিচ্ছু নেই। এরই মধ্যে নতুন সঙ্গী খুঁজে পেয়েছে। Please- Follow & Share 



0/Post a Comment/Comments

Please do not enter any spam link in the comment box.

Stay connected

FACEBOOK- Fans Like
TWITTER- Followers Follow
YOUTUBE- Subscribers Subscribe

Subscribe us

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner