পটল তুলিতে গিয়া...
- জুয়েল আশরাফ
ননী গোপাল স্যার বাংলা ব্যাকরণ পড়াতেন। আক্কেল গুড়ুম= হতবুদ্ধি। অনুরোধে ঢেঁকি গেলা= অনুরোধে দুরূহ কাজ সম্পন্ন করতে সম্মতি দেয়া। আঙুল ফুলে কলাগাছ= হঠাৎ বড়লোক হওয়া। এসব বাগধারা তৈরিতে বদরুল সবসময়ই অষ্টরম্ভা দিত। বাংলা ব্যাকরণের সাথে তার আদায় কাঁচকলায় সম্পর্ক। এ জন্য স্যারের কাছে মাঝে মাঝেই সে অর্ধচন্দ্র খেত। ব্যাকরণ ক্লাশের সময় সে ঘোড়ার ঘাস কাটে আর আষাঢ়ে গল্প করে। স্যার তাকে অকালপক্ক বলে ডাকে। বলতেন, তুই যদি বাংলাতেও খারাপ ফলাফল করবি তাহলে তোর জন্য বাংলা ভাষা ইঁদুর কপালে। স্যারের সঙ্গে বদরুলের অহিনকুল সম্পর্ক নেই। তারপরও স্যার তাকে ইলশে গুঁড়ির ভেতরেই ক্লাশ থেকে বের করে দিতেন। এই নিয়ে বদরুলকে কখনো উভয় সংকটে দেখিনি। সে গদাই লস্করি চালে বের হয়ে যেত। তার চিন্তা হলো- সমস্ত পড়ালেখার ভেতর ব্যাকরণ পড়া হলো কাঁঠালের আমসত্ত্ব। তারচেয়ে ভাল যদি কেউ এক বালতি তিতকুটে করলার জুস গিলে খাইয়ে দিত! দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষায় বাগধারা এলো- পটল তোলা। বদরুল ভেবেচিন্তে বানিয়ে কী কী সব লিখল। পরীক্ষার খাতা দেখার দায়িত্ব পড়ল ননী গোপাল স্যারের ওপর। বদরুলের 'পটল তোলা' বাগধারা চোখ পড়তেই স্যার হেসে গড়াগড়ি অবস্থা। এই অকাল কুষ্মান্ডটা কিছু না বুঝেই যা লিখেছে সেটাও অযৌক্তিক কারণে তাকে নম্বর দেয়া থেকে বঞ্চিত করা যায় না। সে লিখেছে, পটল তোলা= মারা যাওয়া। লোকটি পটল ক্ষেতে পটল তুলতে তুলতে মারা গেল...।
Jewel Ashraf more short stories- 👉 Aabasa-Choitrer dupure-Guljer mamer bosonto belash-Jamai bedai-Nargis kahon - Gadami -


Post a Comment
Please do not enter any spam link in the comment box.