হাত পাখা,,
আজহার মাহমুদ,,
প্রচণ্ড রোদ, শরীর থেকে অনবরত ঘাম ঝরছে। রাস্তায় জ্যাম। আমি মোটরসাইকেলে বসে আছি। ডানে বামে দেখছি। আমার একটু দূরে একটা মহিলা বসে আছে। তার কোলে একটা বাচ্চা। দেখে মনে হচ্ছে মহিলাটির কোনো থাকার স্থান নেই। কাগজের ঢাল দিয়ে বাচ্চাটিকে বাতাস করছে।
এদিকে প্রচণ্ড গরমে আমার শরীর ঘেমে গেছে। বলা যায় শার্ট ভিজে গেছে। এবার আন্দাজ করতে পারেন গরমের তাপ কতটা ছিল। যাইহোক আমার মনোযোগ ছিল মহিলাটির দিকে। মহিলাটি দেখতো খুবই রোগা ছিল। তার সন্তানকে সে ঢাল দিয়ে বাতাস করলেও সন্তান কাঁদছে। একটু পর আমি লক্ষ্য করলাম মহিলাটি তার বাচ্চাকে মুখ দিয়ে ফুঁ দিয়ে বাতাস করছে। গাড়ি থেকে নেমে মহিলাটির সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। মহিলাটি আমার দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়। মানে টাকা চাইছে। আমি তখন বললাম, এই নেন ১০০ টাকা। একটা হাত পাখা কিনে বাচ্ছাকে বাতাস কইরেন।
মহিলাটি অনেক খুশি হয়ে জবাব দিলো, ঠিক আছে বাবা। কিন্তু মহিলাটি হাত পাখা কিনবে না। কারণ সারাদিন ভিক্ষা করে যা টাকা পায় তা দিয়ে তার আর তার বাচ্চা খাবারের খরচ হয় না।
বাণিজ্য মেলায় যাচ্ছি। যাওয়ার সময় ভাবলাম, মহিলাটির জন্য একটা হাত পাখা কিনবো। বাসায় যাওয়ার সময় দিয়ে যাবো। মেলায় গিয়ে একটা সুন্দর হাত পাখা নিলাম। দাম ২৪০ টাকা। এটা ছোট করে বেগে ঢুকিয়ে রাখা যায়। তাই দামও একটু বেশি। অনেক দরদাম করে ২৪০ পর্যন্ত রাখলো। একটু আনন্দ নিয়েই যাচ্ছিলাম মহিলাটির কাছে। কিন্তু গাড়ি থেকে নেমে দেখি যে স্থানে মহিলাটিকে ১০০ টাকা দিয়েছিলাম সেখানে নেই। বাসায় এসে সারাদিনের কথা তাদের খুলে বলি। এরপর আমার বাবা-মা আমাকে সান্ত্বনা দেয়। বাবা বলেন, কপালে থাকলে আবারও দেখা হবে। তবুও চিন্তটা মাথায় থেকে গেল। হাত পাখাটিও আমার ব্যাগে থেকে গেল।


Post a Comment
Please do not enter any spam link in the comment box.