কোরবানির ইতিহাস,,
আশিকুর রাহমান ইমাদ,,
‘কোরবানি’ শব্দের আদ্যোপান্তে মিশে আছে আল্লাহর মনোনীত দুজন নবীর কাহিনী। এ শব্দজুড়ে স্মৃতি জড়িয়ে আছে ত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর খোদায়ী প্রেমের সংশয়াতীত ঈমানি দৃষ্টান্ত। হজরত ইসমাঈল (আ.)-এর খোদার রাহে জীবন বিলিয়ে দেয়ার প্রতিশ্র“তি এবং শাণিত ছোরার তলে বিরল প্রেমের নিদর্শন। দুনিয়ার বুকে এমন প্রেম খেলার উপমা আর নেই?
এ প্রেমে মোহিত হয়ে কবি কাজী নজরুল ইসলাম গাইলেন-
‘ইব্রাহিমের কাহিনী শুনেছ? ইসমাঈলের ত্যাগ?
আল্লারে পাবে মনে কর কোরবানি দিয়ে গরু-ছাগ?
আল্লাহর নামে ধর্মের নামে, মানব জাতির লাগি-
পুত্ররে কোরবানি দিতে পারে, আছে কেহ হেন ত্যাগী?’ (বকরীদ)।
ত্যাগের শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রতি বছর জিলহজ মাসের ১০, ১১, ১২ তারিখের যে কোনো দিন পশু কোরবানি করে ঈদুল আজহা উদযাপন করেন। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং গরিবদের মুখে হাসি ফোটানো ও আত্মীয়স্বজনদের মাঝে সেতুবন্ধ রচিত হয়। নিজেকে পরিশুদ্ধ করা এবং নিজের আত্মাকে একমাত্র আল্লাহর রাহে বিলিয়ে দেয়ার জন্য কোরবানির শিক্ষা মুসলিম জাহানে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
এটি খাঁটি খোদায়ী প্রেমিক হওয়ার মাধ্যম ও বিত্তশালীদের জন্য আবশ্যকীয় একটি চিরস্থায়ী বিধান। কিন্তু এ ধারাকে কলঙ্কিত করতে বিশ্বে কিছু ‘পরগাছা’ জন্ম নিয়েছে। এরা বিজ্ঞান-মনস্কহীন, অসচেতন, পরিবেশ-ভারসাম্য রক্ষায় অনুপযোগী গোষ্ঠী এবং সঠিক রাস্তা ভোলা বাস্তুহারা দলবিশেষ। মানুষের খাদ্য তালিকায় নিরামিষের পাশাপাশি আমিষেরও যে প্রয়োজন রয়েছে এরা তা ভুলে যায় সুস্থ ও সুন্দর থাকার জন্য আমিষ খাওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন এবং তা বিজ্ঞানসম্মত।
আল্লাহ বলেন- ‘তোমাদের জন্য চতুষ্পদ জন্তুর মাঝে শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে। তার উদরস্ত বস্তু থেকে (দুধ) তোমাদেরকে পান করাই। তোমাদের জন্য তাতে আরও অনেক উপকারিতা রয়েছে এবং তার গোশতও তোমরা খাও।’
(সূরা মু’মীন : ২১)।
পরগাছাদের একটি অনুযোগ হচ্ছে, ‘পশুর মাংস খাদকদেরকে উগ্র ও হিংস করে তোলে।’ কিন্তু ওরা জানে না যে, ইসলাম মাংসাশী পশুর মাংস খেতে নিষেধ করেছে। যেমন : সিংহ, বাঘ, কুকুর, নেকড়ে ইত্যাদি যেগুলো উগ্র ও হিংস । শুধু তাই নয়, ইসলাম আরও নিষেধ করেছে- তীক্ষè দাঁতবিশিষ্ট ইঁদুর জাতীয় প্রাণী, সরীসৃপ এবং ধারালো ঠোঁট ও নখবিশিষ্ট প্রাণী। ইসলাম মুসলমানদের কেবল তৃণভোজী পশুর মাংস খেতে বলেছে।
যেমন : গরু, ছাগল, মহিষ, ভেড়া ইত্যাদি যেগুলো অত্যন্ত শান্ত, পোষমানা ও নিরীহ প্রাণী। আমরা কেবল শান্ত, নিরীহ ও পোষমানা পশুর মাংস খেয়ে থাকি। সে কারণেই বিশ্বজুড়ে আমরা শান্তিপ্রিয় ও অহিংস জাতি। সুতরাং পশু কোরবানি করা বা পশু খাওয়া কোনো হিংস তা নয় বরং পরিবেশ রক্ষা ও প্রয়োজন মেটানোর জন্য এবং আল্লাহর বিধান পুরোপুরি মেনে তার সন্তুষ্টি অর্জন করাই হচ্ছে ইসলাম ও মুসলিমদের একমাত্র উদ্দেশ্য। মুসলিমরা সবসময় বুকে লালন করে এই আয়াতটি-
‘নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও আমার মরণ সারা জাহানের রব আল্লাহর জন্য’।
-সূরা আনআম (৬ : ১৬২)
কবি কাজী নজরুল ইসলামের ভাষায় পশু কোরবানির পাশাপাশি নিজের পশুস্বভাবেরও দমন করা চাই। তিনি কবিতায় বলেন-
মনের পশুরে কর জবাই
পশুরাও বাঁচে, বাঁচে সবাই।
কশাই-এর আবার কোরবানি! (শহিদি ঈদ)
‘ওরে হত্যা নয় আজ ‘সত্যগ্রহ’ শক্তির উদ্বোধন!
দুর্বল! ভীরু! চুপ রহো, ওহে খামকা ক্ষুব্ধ মন!
ধ্বনি ওঠে রণি দূরবাণীর-
আজিকার এ খুন কোরবানির!
দুম্বাশির রুম্বাসীর!
শহিদের শির সেরা আজি! -রহমান কি রুদ্র নন
ব্যস! চুপ খামোশ রোদন! (কোরবানি)


Post a Comment
Please do not enter any spam link in the comment box.