অটোপাশ
জারিন তাসনীম রুকু
মা-খালা সমাজে রিকার বেশ সুনাম,আর কাজিন সমাজে রিকার বেশ উচ্চস্তরে সুনাম।প্রথম সমাজে সুনাম কারন সে বেশ ভালো শিক্ষার্থী তার নাম জ্বলজ্বল করে সব খালাদের চোখে,কাজিন সমাজে একই কারণে উচ্চস্তরে সম্মান, এই যে রাত দুপুরে প্রত্যেক মায়েরা উচ্চস্বরে রিকা রিকা জপ করে তাদের ঘুম পাড়ায় আবার তাদের ঘুম ভাঙায় তাতে তারা বেশ ক্ষিপ্ত।
রিকার কোনোটাতেই খুব একটা যায় আসে না, সে মা খালাদের কাছে গেলে একটু আদর বেশি পায় এদিক টাতে পচানী গিলে খায়।
রিকার মায়েরা দশ বোন।ভাইহীন দশ বোনের পরিবার জুড়ে ভাইবোনের কমতি নেই। সব মিলে নানু বাড়ি ঘুড়তে এলে ওদের বাসার উঠোনটাতেও মানুষ গিজগিজ করে।আর ওরা সব মিলেই আসে।
এবার ও সব এসেছে।
রক্তিম বলল,সেদিন বুঝলি পানি খাচ্ছি তো তিন ঢোকে না খেয়ে এক ঢোকে গিলে ফেলেছি।
তো মা বললো, কতবার বলা লাগে তিনঢোকে পানি খাবি,হাজার বার বললেও শুনে না ছেলে।এক ঢোকে পানি গিলিস বলেই তো রিকার মত ভালো রেজাল্ট তোর ভাগ্যে নেই ও এবার ওর স্কুলে ফার্স্ট হয়েছে।
রিকা মিচমিচ করে হাসছে।নেহাল ওর মাথায় বাড়ি দিয়ে বলল তোর জন্য সকাল রাত আমার ঘুম হারাম হয়ে যায় ঘুমাতে যাওয়ার আগে রিকা উঠার পরেও রিকা।
নিশাত বলে উঠলো,তোর জীবনে রিকার উপস্থিতি খানিকটা বেশি ই থাকে নেহাল।
নেহাল নিশাত এর চুল গুলো টানতেই নিশাত পেছন ঘুরে ওর পিঠে সটান বাড়ি
রিমন বললো,এক কাজ কর তুই আমাদের কাজিন গ্রুপ থেকে বের হয়ে যা রিকা
আম্মু বলে,”রিকা আপু নাকি সেকেন্ড হয় না জীবনে, একারনে সেকেন্ড হয়ে আমি সবসময় বকা খাই”,নিশিতা ওর সেকেন্ডের দুঃখের কথা বলতেই ওর ভাই নীলয় ওর পিঠ চাপড়ে বললো তুই কোনো কথায় বলবি না। রিকার পর তুই আরেক হারামী রিকার কথা বাসায় শেষ যখন একটু হবে হবে তখনই মায়ের মনে পরে তার ছোট মেয়ের কথা আর বলতে শুরু করে দ্যাখ দ্যাখ তোর ছোট বোনটাও কত ভালো রেজাল্ট করে সেকেন্ড হয়।জীবন টা তোদের জন্য আর জীবন রইলো না রে।
রিমন বললো,তোরা দুইটা একটা কাজ কর আমাদের কাজিন গ্রুপ থেকে বের হয়ে যা বুঝলি তো।
এর মাঝে রুম্মান ওর সাদা চকচকে দাঁত বের করে হাসতে হাসতে এগিয়ে এসে বলে উঠলো,অটোপাশ রিকা কে নিয়ে এত উত্তাল কেন তোদের মাঝে!
সবাই হতবাক হয়ে রুম্মান এর দিকে তাকিয়ে বললো,অটোপাশ মানে?
রুম্মান বললো এই যে কত কাঠখড় পুড়িয়ে উচ্চমাধ্যমিক এর জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেছি পাশ করেছি।উচ্চমাধ্যমিক কী মুখের কথা রে??
আর কী এক রিকা, অ আ ক খ পাশ করে ফার্স্ট হয় তাকে নিয়ে আবার আলাপ..!উচ্চমাধ্যমিক তো ওর জীবনে নাই।
মানে?
আরে ওদের তো অটোপাশ,পরীক্ষা ছাড়া পাশ করেছিস অত ভাব নেয়ার কিছু নাই আর
রিকা সবার দিকে মায়া মায়া চোখ করে তাকিয়ে বললো তোমরা মজা নিচ্ছো তাই না??
ছি ছি রিকা তুই এই চিনলি তোর রুম্মান ভাইকে!
রিকা বিবর্ণ মুখে সবার দিকে তাকিয়ে আছে, বেচারার এতদিন যা একটু সুনাম সবটাই গেলো।
নেহাল বলে উঠলো আরে বোকা মন খারাপ করিস না জীবন কী সবসময় সরলরেখায় চলে??উথান পতন কত আসবে যাবে মানিয়ে চলা লাগে তো,একভাবে চললে তোর পা তো মাটিতে থাকবে না
রিকা ভাবলো যাক ভাইয়ারা সাপোর্ট করছে।
রক্তিম বললো,এছাড়া তোর ফিউচার একেবারে ফকফকা,উচ্চমাধ্যমিক তো গেলো।এবার ধর এতশত শিক্ষার্থী পাশ করেছে যাবে কই এরা এর জন্য সব জায়গায় তোদের অটোঅ্যাডমিশন হয়ে যাবে।
নেহাল বললো, তারপর ধর পাবলিকে কোনো অনলাইন ক্লাস হবে না।কত রকমের মানুষ পাবলিকে পড়ে লক ডাউনে তো তারা ক্লাস করতে পারবে না আর সেশন জট দিয়েও লাভ নাই সো অটো পাশ
রক্তিম বললো,হ্যাঁ অটো পাশ রিকা থেকে অটো গ্রাজুয়েট পাশ রিকা
রুম্মান বললো, হ্যাঁ তারপর মাস্টার্স করবি তখন হবে অটো প্রো গ্রাজুয়েট পোস্ট গ্রাজুয়েট পাশ রিকা
নিশাত বললো,পিএইচডি করার না তোর খুব শখ, তখন হবে অটো আল্ট্রা প্রো গ্রাজুয়েট পোস্ট গ্রাজুয়েট পিএইচডি পাশ ম্যাক্স রিকা
আয়ান বললো,আপুর চাকরি হবে না?
অতুল বললো,অটো জব হবে,অটো জব।
নিশিতা বললো,জব হলে আপুকে সবাই কী বলবে?
নিশাত বললো, অটো সুপার আল্ট্রা প্রো গ্রাজুয়েট পোস্ট গ্রাজুয়েট পিএইচডি জব পাশ ম্যাক্স
নেহাল নিশাত কে বললো,তোর দ্বারা কিছু হবে না তুই ওর সাথে ফর্ম ফিলাপ করতে পারতি,যে এত ডিগ্রির অধিকারী তার নাম ই লাগাস নাই।তখন হবে, অটো সুপার আল্ট্রা প্রো গ্রাজুয়েট পোস্ট গ্রাজুয়েট পিএইচডি জব পাশ ম্যাক্স রিকা
রিকা বললো, হ্যাঁ প্রমোশন হইলে হবে অটো সুপার আল্ট্রা প্রো গ্রাজুয়েট পোস্ট গ্রাজুয়েট পিএইচডি জব প্রমোশন পাশ ম্যাক্স রিকা
রিকা কথার স্রোতে বলে নিজেই উভয় সংকটে হাবুডুবু খাচ্ছে এদিকে সবাই হোহো করে হেসে উঠলো।
রিমন বললো,ছি ছি নিজের মুখে বলতি পারলি এটা! তাও আবার আমার কাজিন হয়ে ছি ছি।তুই আমাদের কাজিন গ্রুপ থেকে চলে যা বুঝলি তো।


Post a Comment
Please do not enter any spam link in the comment box.