শরৎ চিঠি

 শরৎ চিঠি

সুমন আহমেদ 

প্রিয় দূরদ্বীপবাসিনী... 
শরৎ এলেই কেন জানি বারবার শুধু তোমার কথাই মনে পড়ে আর খুব জানতে ইচ্ছে করে কেমন আছো তুমি? দূরত্বের দেয়াল গড়ে সংসার নামের সুখ কুটিরে স্বামী-সন্তান নিয়ে হয়তো ভালোই আছো। না পাওয়ার আক্ষেপ বুকে নিয়ে- তুমিহীন একাকীত্ব জীবনে ভালো নেই আমি। জানো,আজকাল খুব ইচ্ছে করে তোমার কাছে চিঠি লিখতে। আজ কতটা বছর পেরিয়ে গেল তোমাকে চিঠি লিখিনা। একটা সময় ছিল তোমাকে প্রতিনিয়ত চিঠি লিখতাম আর তুমিও আমাকে...। আমাদের চিঠি আদানপ্রদানের ডাকপিয়োন ছিলো আমার চাচাতো বোন হাবিবা। হাবিবা ছিল তোমার খুব কাছের বান্ধবী; তোমার মনে আছে সুমিতা- এমনই এক শরতের পড়ন্ত বিকেলে,তোমার সাথে আমার সর্বপ্রথম দেখা ও প্রাণ খুলে কথা হয়েছিল আমাদের প্রিয় তিতাস নদীর পাড়ে। সেদিন তোমার আগমনে সুখের উচ্ছ্বাসে যৌবন জোয়ারে ভাসছিল তিতাসের শান্ত দু'কূল- হিমেল হাওয়ায় দুলছিল কাশফুল; পাখা মেলে উড়ছে প্রজাপতি আর সাদা মেঘের বেলায় ভাসছিল শরতের যুবতী আকাশ। কিছুদিন পর তোমার পরিবার আর আমার পরিবার আমাদের সম্পর্কের কথা জেনে গেলেন; তারপর আমাদের দুই পরিবার মিলে সিদ্ধান্ত নিলেন- বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করে চার হাত এক করে দেওয়ার। কিন্তু সেদিন আমি আর আমার পরিবার কিছুতেই বুঝতে পারিনি- মীর জাফরের চেয়েও এতটা বিশ্বাস ঘাতকতা করবে তোমার পরিবার; বুঝতে পারিনি সরকারি চাকুরিজীবি আর শহর এলাকায় পাঁচতলা বাড়ি দেখে প্রতিশ্রুতি ভুলে নিজেকে বিক্রি করে দেবে। সেদিন হাবিবার হাত থেকে হয়তো জীবনের শেষবারের মতো পেয়েছিলাম তোমার শরৎ চিঠি...
প্রিয় নীলাঞ্জন...
কথা দিয়েছিলাম আমৃত্যু অবধি দুইয়ে মিলে এক হয়ে সমস্ত সুখ-দুঃখ ভাগ করে হাতে-হাত রেখে হেঁটে যাবো দুজন একজীবনের দূরদিগন্তের পথ। পারলামনা তোমাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখতে; পারলামনা আমার পরিবারকে কষ্ট দিয়ে তোমাকে আপন করে নিতে। পারলে আমাকে ক্ষমা করে দিও; নাহয় সারাজীবন ঘৃণা করে বেঁচে থেকো। যাকে ভালোবাসি তাকে কি করে ঘৃণা করবো বল? তাইতো একটু-একটু করে তোমার সমস্ত স্মৃতি বুকে আঁকড়ে ধরে আজও বেঁচে আছি। জানো সুমিতা, তোমার প্রিয় ঋতু; শরৎ আবার এসেছে ফিরে- প্রিয় কাশফুল,প্রজাপতি,হিমেল হাওয়া আর তিতাস পাড়ের সেই পড়ন্ত বিকেল; সবকিছু ঠিক আগের মতোই আছে কেবল শুধু তুমিই নেই; এক অচেনা পৃথিবীর হাত ধরে- এমনই এক শরতের সাদা মেঘের ভেলায় চড়ে একটি সুখের গন্তব্যের প্রত্যাশায় চলে গেছো সব মায়ার বাঁধন ছিন্ন করে। জানিনা আজ কোথায় আছো- কেমন আছো; তবে ঈশ্বরের কাছে একটাই প্রার্থনা- যেখানেই থাকো সবসময় যেন ভালো থাকো। 

ইতি-
তোমার নীলাঞ্জন। 

0/Post a Comment/Comments

Please do not enter any spam link in the comment box.

Stay connected

FACEBOOK- Fans Like
TWITTER- Followers Follow
YOUTUBE- Subscribers Subscribe

Subscribe us

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner