মোহিনী রাত-ছোট গল্প

 মোহিনী রাত

মোঃ তোফায়েল হোসেন

মেয়েটার শরীরের ভাষা এতটাই আবেদনময়ী ছিল যে আমার সমস্ত অস্তিত্ব নাড়া দিয়ে বললো- যাও না একটু ছুঁয়ে এসো। পা বাড়াতেই দ্বিতীয় স্বত্তা ধমক দিল- থাম ওখানে বিষ-নিঃশ্বাস আছে। মরে যাবে মুহূর্তে।


ফিরে এসে লাইটপোস্টের গায়ে হেলান দিলাম। এবার মেয়েটা নিজেই দু’পা এগিয়ে এসে হরিণীর চোখ পিট পিট করে কোমর বাঁকিয়ে অভিনব এক ভঙ্গিমায় দাড়াল। শিহরণ বয়ে গেল শিরায় শিরায়। মন তাড়া দিল- “বোকা কোথাকার! এখনো দাড়িয়ে আছ?” 


প্রচণ্ড এক ধাক্কা লাগল মস্তিষ্কে। পা বাড়ালাম সম্পূর্ণ আলাদা একটা স্বপ্ন দেখব বলে। এবারও দ্বিতীয় স্বত্তা সুতা ধরে টান দিল- “ওখানে শূণ্যতা ছাড়া আর কিছু নেই বন্ধু।” আমি ধমক দিলাম- “তুমি থাম তো।” দু’পা এগিয়ে গেলাম। দ্বিতীয় স্বত্তা আবার বলে উঠলো- “যেতে চাচ্ছ যখন যাও, তবে না গেলেই ভালো হতো।”


আমি থামতে বাধ্য হলাম। দ্বিধা জাগ্রত হলো মনে- যদি ডুবে যাই চুরাবালিতে? যদি আর কোনদিন ফিরতে না পারি এই মোহিনীর কাছ থেকে? আমার থমকে দাড়ানো দেখে মেয়েটা নিজেই এগিয়ে এলো। সীমাহীন কারুকাজ তার সমস্ত কাঠামোতে। মেয়েলি শরীরের হালকা একটা সুবাস ছড়িয়ে আছে বাতাসে। আমার পা আমার অজান্তে অগ্রসর হলো। চোখের তারায় রাতের আঁধার হারিয়ে গেল। কানের ছিদ্রে উত্থাল সমুদ্র অবিরাম গর্জন করতে লাগল। সমস্ত শরীরে জ্বর আসা কাঁপন নিয়ে কিছু বুঝার আগেই ছুঁয়ে দিলাম রাতের রাণীর তন্বী শরীর।


বিক্রি হলো রূপসী। রাতের জন্য তাকে কিনতে পেরে নিজেকে একজন সম্রাট মনে হলো। তার কোমল শরীরের স্পর্শে আমার মাথায় শূণ্যতার সৃষ্টি হলো। অক্সিজেনের অভাব অনুভব করতে লাগল ফুসফুস। তবুও অজানা সুখের আশায় শহরের শেষ বাঁক ঘুরে নির্জন রাতের আধারে তাকে নিয়ে হাটতে লাগলাম। নিজের সমস্ত চেনা জগৎ কোথায় যেন বিলিন হয়ে গেল। তার জায়গায় অচেনা এই আমি আর এক ষোড়শী যুবতী আদিম নেশায় মত্ত্ব হয়ে সীমানা পেরিয়ে দেশ দেশান্তর ঘুরে ঢেউ উঠা পাহাড়ের চূড়া আর তীর ভাঙা নদীর খেলায় নিজেকে হারাতে ক্রমশ এগিয়ে গেলাম।


চূড়ান্ত মুহূর্তে আমি আমার দ্বিতীয় স্বত্তার কাছে হেরে গেলাম। মেয়েটিকে তার প্রাপ্য টাকা দিয়ে চলে যেতে বললাম। নিজেকে কিভাবে যে ফিরালাম নিজেই জানলাম না। তবে এটা বুঝলাম- যদি একবার ডুব দিতাম মেয়েটার উষ্ণ বুকে তবে আমার আর ফেরা হতো না কোনদিন সেই শীতল পৃথিবী থেকে।


তার জীবনে এ রকম ঘটনা এই প্রথম ঘটায় সে বিষ্ময়ের ধাক্কায় এলোমেলো হয়ে গেল। তারপর আমাকে অবাক করে টাকাগুলো আমার হাতে ধরিয়ে দিল। তারপর হঠাৎ করেই আমাকে জড়িয়ে ধরে টানতে লাগল বিছানার দিকে। নিজেকে থামানোর চেষ্টায় আপ্রাণ লড়তে লাগলাম। কিন্তু ক্রমশ দূর্বল হয়ে পড়তে লাগল আমার সমস্ত অস্তিত্ব এমন কি দ্বিতীয় স্বত্তাও।


0/Post a Comment/Comments

Please do not enter any spam link in the comment box.

Stay connected

FACEBOOK- Fans Like
TWITTER- Followers Follow
YOUTUBE- Subscribers Subscribe

Subscribe us

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner