সততার পুরস্কার,,
ইমরান খান রাজ,,
প্রতিদিনের মতো আজও স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মায়ের কাছে থেকে বিদায় নিয়ে রওনা হয় রাজু। সে পাশের এলাকার একটি সরকারি স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। খুব বেশি ভালো ছাত্র না হওয়া সত্ত্বেও সে একদিনও স্কুল বন্ধ দেয় না।
রাস্তা দিয়ে হেঁটে হেঁটে স্কুলে যাওয়ার সময় হঠাৎ তার চোখে পড়লো কালো রঙের একটি ব্যাগ। প্রথমে ব্যাগটা দেখে সেটাতে মনোযোগ না দিয়েই হাঁটতে থাকে সে। কিছুদূর যাওয়ার পর রাজুর মনে কৌতূহল শুরু হয়। নানান প্রশ্ন মনের মাঝে ঘুরপাক খেতে থাকে। কৌতূহলী হয়ে সে ব্যাগটির দিকে ফিরে আসে এবং ব্যাগ হাতে নিয়ে খোলার পর দেখে ভিতরে টাকার পাঁচটা চকচকে বান্ডিল। এটা দেখার পর অনেকটা বিস্মিত এবং হতবাক হয়ে ওঠে সে! এতো টাকা জীবনে কখনো দেখেনি!
অত্যন্ত চিন্তিত মনে টাকার ব্যাগটা তার স্কুলের ব্যাগের ভিতর ভরে নিয়ে স্কুলে চলে যায় সে। স্কুলের সহপাঠী এবং তার শিক্ষকদের কাছে বিষয়টি খুলে বলার চেষ্টা করেও ঘাবড়ে গিয়ে তা আর বলা হয় না। ক্লাস শেষে ক্লান্ত শরীর নিয়ে সোজা বাসায় চলে যায় রাজু এবং বাসায় গিয়ে নাস্তা করেই ঘুমিয়ে পড়ে।
ঘুমের ভেতর হঠাৎ স্বপ্নে দেখে তার স্কুলের ব্যাগের ভেতর থেকে কে জেনো অনেকগুলো টাকা নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে! আচমকাই ঘুম ভাঙে তার। ঘুম থেকে উঠেই সোজা পড়ার টেবিল থেকে স্কুলের ব্যাগ নিয়ে তার বাবা মায়ের কাছে চলে যায় এবং ব্যাগ থেকে টাকার বান্ডিলগুলো বের করে সেগুলো তাদের সামনে রাখে। রাজু’র বাবা-মা ব্যাগের ভিতর এতো টাকা দেখে চমকে উঠে। টাকার বিষয়ে রাজুকে জিজ্ঞেস করলে সে সমস্ত ঘটনা খুলে বলে।
রাজু’র পরিবার ছিল খুবই দরিদ্র। পাঁচ লাখ টাকা দেখার পর তারা ভাবে টাকাগুলো তাদের কাছেই রেখে দিবে এবং এই টাকা দিয়ে তারা বড়লোক হয়ে যাবে। কিন্তু এই সিদ্ধান্তে রাজু অসম্মতি জানায় এবং টাকাগুলো প্রকৃত মালিকের কাছে ফেরত দিতে চায়। প্রথমে বাবা-মা রাজুকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করে অবশেষে ব্যর্থ হয়ে টাকাগুলো ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়।
পরেরদিন সকালে রাজুর স্কুলের শিক্ষক এবং পুলিশ বাহিনীর মাধ্যমে কুড়িয়ে পাওয়া টাকাগুলো প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়। টাকাগুলো ফেরত পেয়ে খুশিতে আত্মহারা হয়ে যায় টাকার মালিক! এসময় রাজুর সততার কথা জানতে পেরে সে রাজুকে জড়িয়ে ধরে দোয়া করে এবং সততার পুরস্কার হিসেবে রাজুকে খুশি হয়ে পঞ্চাশ হাজার টাকা পুরস্কার দেয়। সেই পুরস্কারের টাকা দিয়ে ব্যবসা করার মাধ্যমে রাজুর পরিবারের আর্থিক অভাব দূর হয় এবং তারা আনন্দে দিন কাটাতে থাকে।


Post a Comment
Please do not enter any spam link in the comment box.