অত্যাচারি শিয়ালের রাজত্ব,,
মকবুল হামিদ,,
অনেক বছর আগের কথা। সন্ধ্যা নদীর পাশে একটা নির্জন বন ছিল। সেই বনে বাস করতো একটা অত্যাচারি শিয়াল। সে ছিল খুব বদমেজাজি স্বভাবের । বনের মধ্যে অনেক ছোট ছোট প্রানীর বসবাস ছিল। সবাই বদমেজাজি শিয়ালকে খুব ভয় পেত। এজন্য তার ভয়ে বনের কোনো প্রানীই শব্দ করে চলাফেরা কিংবা চেঁচামেচি করতো না। বনের মধ্যে বনমোরগ, বনমুরগী, খরগোশ, হরিণ, কিংবা ছোট বড় অনেক পাখি ছিল। সবাই শিয়ালকে দেখে নিজের বাসা থেকে বের হওয়ার সাহস পেত না। শিয়ালের নজরের বাহিরে কেহ যেতে পারতো না। ঐ বনের ভেতর শিয়ালের একটা রাজস্থান ছিলো। শিয়াল সেখানে তার প্রজাদের ও সঙ্গিদের নিয়ে বসবাস এবং রাজ্য শাসন করতো। শিয়ালের মনে যা চাইতো সে তাই করতো। সে বনমুরগীর বাচ্চা ছাড়া আহার করতো না। বনে ছোট বড় বনমুরগীর সংখ্যা ছিল প্রায় হাজার। প্রতিদিন সে তিন বেলায় তিনটি বনমুরগীর বাচ্চচা খেতো। হঠাৎ একদিন রাতে কিছু বনমুরগী তার বাচ্চাদের নিয়ে বন থেকে পালিয়ে যেতে চাইল। কিন্তু কিভাবে যাবে? চারদিকে পানি আর পানি। তাও গাছের তক্তার উপর উঠে যেতে চাইল কিন্তু মাঝ নদীতে এমন ঝড় শুরু হলো যে বন মুরগী তার বাচ্চা নিয়ে ঝড়ের কবলে পড়ল। তক্তা গেল ডুবে। বনমুরগী কোনোভাবে সাঁতরায়ে আবার বনে ফিরে গেল। কিন্তু সে তার বাচ্চাদের বাঁচাতে পারলো না। বাচ্চারা স্রোতের সাথে তলিয়ে গেল। সেই ভয় এখনো মা বনমুরগীদের মনে বাসা বেঁধে রয়েছে। আর এই ভয়ের কারণে কেহ বন থেকে পালিয়ে যেতে সাহস পায় না। এদিকে শেয়ালের অত্যাচার দিনের পর দিন বেড়েই যাচ্ছে। সে প্রতিদিন কৌশল করে মুরগীর বাচ্চা ধরে সাবাড় করে নিচ্ছে। তার এমন অত্যাচারে বনের সব পশুপাখি অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে। বনের মুরগীরা তাদের বাচ্চাদের অত্যাচারি শিয়াল থেকে দূরে থাকার জন্য বারবার নিষেধ করেছে। তবু চালাক শিয়াল বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে চালাকি করে নিজের আহার আদায় করে নিচ্ছে। বনের বনমুরগীরা একদিন মিটিংয়ে বসল। আলোচনা করতেছিল কিভাবে অত্যাচারি শেয়ালকে ফাঁদে ফেলানো যায়। তারা ভাবল যদি একবার শেয়ালকে ঘায়েল করা যায় তাহলে তারা শিয়ালের অত্যাচার থেকে রেহাই পাবে। কিন্তু চালাক শেয়ালের বুদ্ধির কাছে তারা কি সফল হতে পারবে? বনমুরগীরা যতটুকু ভাবে তার চেয়ে দ্বিগুন ভাবে চালাক শেয়ালটি। বনমুরগগুলো বনের মধ্যে একটা গর্ত খুঁজে পায়। তারা পূর্বের স্থান ত্যাগ করে নতুন স্থানে যায় বসবাস করার জন্য। এ কথা শেয়াল জানে না। রাতে যখন শেয়ালের ক্ষুধা লাগল সে একটা প্রহরীকে পাঠায় একটা মুরগীর বাচ্ছা ধরে নিয়ে আসতে। প্রহরী গিয়ে দেখে বনমুরগীদের এলাকা নীরব, নিস্তব্দ। সেখানে কোনো মুরগি কিংবা বাচ্চা নেই। প্রহরী তন্ন তন্ন করল কিন্তু তাদেরকে কোনো স্থানে দেখতে পায় নি। প্রহরী দৌঁড়ে গিয়ে রাজ দরবারে গেল এবং শেয়ালকে সব খুলে বলল। শেয়ালের তো মাথা গরম হয়ে গেল। ক্ষুধায় তার পেট জ্বলতেছিল। শেয়াল ঐ রাতেই বনের সকল জায়গা তন্ন তন্ন করে খুঁজল। কিন্তু সে মুরগীদেরকে খুঁজে পেল না। না খেয়ে পেটে ক্ষুধা নিয়ে শেয়ালটা কোনো রকমে রাত অতিবাহিত করল। সকাল হতেই বনমুরগীরা তাদের বাচ্চাদেরকে গর্তের মধ্যে রেখে খাবার আনতে বাহিরে চলে গেল। আর যাওয়ার সময় বলল, আমরা না আসা পর্যন্ত তোরা গর্ত থেকে বের হবি না। কিছুক্ষণ পর চালাক শেয়ালটি তাদেরকে খুঁজতে বের হল। গর্তের ভেতরে যে একটা সাপ আগে থেকেই রয়েছে তা প্রথমে কেউ দেখতে পায় নি। হঠাৎ মুরগীর বাচ্চারা সাপটি দেখে চিৎকার করতে লাগল। তাদের চিৎকার শুনে চালাক শেয়ালটি গর্তের পাশে এসে দেখল মুরগীর বাচ্চাগুলো গর্তের মধ্যে আশ্রয় নিয়েছে। চালাক শিয়ালটি একটা লাঠি এনে সাপটিকে আঘাত করল। আঘাতে সাপটি মারা গেল। এবার চালাক শিয়ালটি সব বাচ্চাদের ধরে নিয়ে গেল তার রাজ্যে। সে সবগুলো বাচ্চাকে খাঁচায় বন্দি করে দিল। ঐ দিকে বনমুরগীরা গর্তে এসে দেখল তাদের বাচ্চারা সেখানে নেই। বনমুরগীরা চুপিচুপি শেয়ালের রাজ্যে গিয়ে দেখে তাদের বাচ্চাদেরকে চালাক শেয়ালটি খাঁচায় বন্দি করে রেখেছে। তারা অনেক চেষ্টা করল বাচ্চাদের বাঁচাতে কিন্তু বাঁচাতে পারে নি। তারা রাত না পোহাতেই বন ত্যাগ করে অন্যত্রে চলে গেল।


Post a Comment
Please do not enter any spam link in the comment box.