জেলে ও ইলিশের গল্প,,
খায়রুল আলম রাজু,,
-বাবা, ওহ বাবা, কোথায় যাচ্ছো?
-পদ্মার পাড়ে যাবো মামণি। মাছ ধরতে। তুমি স্কুলে যাও, সন্ধ্যায় দেখা হবে।
-আচ্ছা বাবা, ইলিশ মাছ ধরলে নিয়ে এসো; ইলিশ পাতুরি খাবো।
রহিম জেলের একমাত্র মেয়ে তিতলি। এক মেয়ে ও স্ত্রী নিয়েই তার সংসার। প্রতিদিন পদ্মা নদীতে মাছ ধরে। আর সেই মাছ হাটে বিক্রি করে। মাছ বিক্রি করে যা পায়—তা দিয়েই সংসার চলে।
মাছ ধরতে তাকে মাঝ নদীতে যেতে হয়; ছোট্ট ডিঙি নৌকায় করে। সবাই দল বেঁধে মাছ ধরতে যায়, তবে রহিম জেলে একা! কারণ রহিম জেলে মা-ইলিশ ধরতে চায় না। রহিম দল ছাড়া নদীতে যায়! এতে তাকে বেশি কষ্ট করতে হয়। কেননা একা একা নৌকা চালানো ও জাল ফেলে মাছ ধরা কষ্টকর। আজ রহিমের জালে একটি মাছও ধরা পড়ল না। রহিম খুব চিন্তিত। এ দিকে সূর্যও ডুবে যাচ্ছে, সন্ধ্যার সময়ও ঘনিয়ে আসছে। সন্ধ্যার আগে বাড়িতে ফিরতে হবে। কিন্তু মেয়ের জন্য হলেও তো একটি মাছ চাই। কী যে করি! হঠাৎ জালে আটকা পড়লো একটি মা-ইলিশ! রহিম চিন্তায় পড়ে গেলো, কি করবে? এক তো আজ একটি মাছও ধরা পড়েনি, আবার একমাত্র মেয়ের ইচ্ছে ইলিশ পাতুরি খাবে। কিন্তু মা-ইলিশ ধরা যে, আইনত অপরাধ! রহিম জেলে মা-ইলিশের দিকে তাকালো, মা-ইলিশ যেনো ঠোঁট নেড়ে কিছু বলছে। রহিম জেলেও যেনো মাছের ভাষা বুঝতে পারে! সে বললো ইলিশ আমি তো নিরুপায়, আজ জালে মাছ ধরা পড়েনি, মেয়ের আবদার ইলিশ পাতুরি খাওয়ার। কিন্তু আজ তো তোকে ছাড়ছি না। আজ তোকে বাড়ি নিয়ে যাবো। মা-ইলিশ তবুও পাখনা নেড়ে আবারো কি যেনো বলছে! রহিম জেলে বিষয়টা বুঝতে পার; মা-ইলিশের পেটে অনেক বাচ্চা, তাই সে মুক্তি চায়! বাচ্চাগুলোকে বাঁচাতে চায়! দেখাতে চায় আলোর মুখ...।
কিন্তু না,রহিম জেলের সিদ্ধান্ত নিলো মা-ইলিশকে আজ নিয়ে যাবে। হঠাৎ তার মনে পড়লো দু'বছর আগের কথা। বৈশাখ মাস, নদীতে কালবৈশাখীর ঝড় উঠলো। সে তো তখন বাঁচার জন্য মোনাজাত করছে আল্লাহ কাছে! তার কিছু হলে মেয়ে আর স্ত্রী একা হয়ে যাবে। তেমনিভাবে মা-ইলিশও নিজের জন্য না হোক বাচ্চাগুলোর জন্য বাঁচতে চায়! সুতরাং মা-ইলিশকে মুক্ত করে দিতে হবে। এতে না হয় মেয়ের একটি আবদার অপূর্ণই থাকুক। কিন্তু এতে তো বেঁচে যাবে হাজারো ইলিশ। আর পরবর্তীতে এই মাছগুলো আমি বা আমার এলাকাবাসী, কিংবা কেউ না কেউ তো ধরবেই। এতে দেশের অর্থনীতির ও উন্নতি হবে,অর্জিত হবে বৈদেশিক মুদ্রা! তারপর রহিম জেলে হাসি মুখে মা ইলিশকে আবারো নদীতে ছেড়ে দেয়। সন্ধ্যার সাথে সাথেই হাসি মুখে ফিরে আসে বাড়িতে। বাড়িতে এসে রহিম জেলে দেখে,
ইলিশ পাতুরী রান্না হয়েছে।
-ফাতেমা (তিতলীর মা) ইলিশ কোথায় পেলে?
-ওহ,আজ তো বাবলু(তিতলীর ছোট মামা) এসেছে দুপুরবেলা। আর বাবলু আসার সময় ইলিশ এনেছে। তিতলীর প্রিয় মাছ তো তাই।
তারপর রাতে সবাই এক সাথে খেতে বসে।তিতলীও ইলিশ পাতুরী দেখে বেশ হাসি-খুশি—ঐ দিকে মা ইলিশকে মুক্তি করে রহিম জেলেও অনেক খুশি।


Post a Comment
Please do not enter any spam link in the comment box.