নদীপাখি আর রংধনু-শিশুতোষ


নদীপাখি আর রংধনু 

খায়রুল আলম রাজু 


সুন্দরপুর, রূপকথার মতোই অদ্ভুত একটা   রাজ্য। পুরো রাজ্য জুড়ে একটাই নদী। নদীটাও পাখির মতো। উড়তে পারে। যেখানে খুশি, যখন-তখন।  রাজ্যের  যেখানেই যখন ধান, গম, কিংবা ফসল চাষের জন্য পানি দরকার নদীটা উড়ে উড়ে চলে যায়। নদীটা উড়তে পারে বলে রাজ্যের সবাই ডাকে “নদীপাখি"। দেশে দেশে খবর ছড়িয়ে গেলো। সুন্দরপুর রাজ্যের নদী উড়তে পারে। দেশ-বিদেশের মানুষ আসতে লাগলো। "নদীপাখি"কে দেখার জন্য। পুরো সুন্দরপুর রাজ্যে তখন ভিনদেশীদের আনাগোনা। সবার মুখে একটাই কথা- নদী পাখি  হয় কী করে! নানান দেশের নানান মানুষ  আসতে লাগলো। 'নদীপাখি' দেখবে বলে। কিন্তু এতো পুরোই সাধারণ নদীর মতো। পাড় আছে, জল আছে, মাছ আছে। ছোট ছোট ঢেউ আছে,  দুপাশে কাশফুলও আছে। কই নদী তো উড়ছে না! সকাল গেলো, বিকেল হলো, রাত্রি এলো। না, নদীটা উড়ছে না৷ পরদিনও সকাল গেলো, বিকেল গেলো, রাত্রিও গেলো। আশ্চর্য! নদীটা তো উড়ছে না। ওদিকে খবর এলো, সুন্দরপুর রাজ্যের সুখিপুরে জল নেই। ওমা, সে কী অবাক কান্ড! নদীটা উড়ছে... সাথে পাড়, দুপাশের গাছ। দেশ-বিদেশের মানুষজন অবাক! মুখে মুখে একই কথা, একই বাক্য- এই নদী, নদী না নদীপাখি। এভাবেই দিন যায়, বছর যায়। নদীপাখি একই নিয়মে বয়ে চলে। হঠাৎ একদিন বৃষ্টি এলো, ঝুম বৃষ্টি। এক দিন, দু'দিন , তিন দিন। না বৃষ্টি থামছে না৷ পুরো এক মাস পর বৃষ্টি থামলো। ওইদিকে বৃষ্টির জলে দু'টো  নদী হলো। নীলাভ আকাশে ধনুকের মতো রংধনু ওঠলো। বেগুনি, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা, লাল ও নীল রঙে মিশ্রিত। নদীপাখির ইচ্ছে হলো রংধনুতে মিশে যেতে। নতুন নদী দু’টোকে  স্বাগত জানিয়ে 'নদীপাখি' ডানা মেললো—রংধনুর রাজ্যে। অসীম আকাশের পথে...।   


0/Post a Comment/Comments

Please do not enter any spam link in the comment box.

Stay connected

FACEBOOK- Fans Like
TWITTER- Followers Follow
YOUTUBE- Subscribers Subscribe

Subscribe us

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner