লোভের ফল-ছোট গল্প

 

লোভের ফল

খায়রুল আলম রাজু


অনেক দিন আগের কথা। শহরের অদূরে  ছিল একটি বন। সবুজ গাছ-গাছালিতে ঘেরা। সে বনে বাস করতো একটি হাতি। হাতিটি ছিলো বনের সবার থেকে আলাদা। তার মনে কোনো প্রকার  হিংসে বা অহংকার নেই। বনের কোথায় কী গুপ্তধন আছে সে সবই জানতো। তবে নিজে কখনো তা ভোগ করেনি। হাতিটি গুপ্তধনের কথা কাউকে বলেও না। নিজের মনেই বিষয়টা সে লুকিয়ে রাখে। একদিন সেই বনে এলো এক গরীব বালক। সে একজন গরীব  রাখাল। বালকটি গরীব হলেও  সৎ এবং পরোপকারী। সে পথভুলে গহীন বনে চলে এসেছে। পথ চিনে গাঁয়ে ফিরতে পারছে না। বালকটি তাই খুব কাঁদছে। হাতির কানে হঠাৎ কান্নার শব্দ এলো। সবুজ ঘাসের বিছানা ত্যাগ করে হাতিটি হাঁটতে শুরু করে। কিন্তু কে কাঁদছে? হাতি খোঁজতে থাকে। বটগাছের নিচে রাখাল বালকের দেখা পেলো। 
-তুমি কে বাঁছা? এই গহীন বনে কী করে এলে?
কাঁদতে কাঁদতে রাখাল বললো, আমি গাঁয়ের মাঠে গরু চড়াতে ছিলাম। হঠাৎ আমার পালের গরু থেকে একটি গরু হারিয়ে যায়! আমি গরুর খোঁজে এখানে চলে আসি। ফিরে যাওয়ার পথ ভুলে গেছি। আমি বাড়ি ফিরতে চাই।
-আচ্ছা বাছা বাড়িতে তোমার কে কে আছে?
-বাড়িতে আমার মা আছেন।
-আর কেউ নেই?
-না, ছোটবেলায় বাবা মারা গেছেন। তখন থেকেই আমি আর মা একা। আমাদের আর কেউ নেই।
-আচ্ছা বাছা কেঁদো না আর। আমি তোমাকে বাড়িতে পৌঁছে দিবো। রাখাল বালকটি কান্না বন্ধ করলো। হাতি বালকটিকে গুপ্তধনের সন্ধান   দিতে চায়। কিন্তু বালকটি সৎ কি-না পরীক্ষা করতে হবে। হঠাৎ হাতির মাথায় বুদ্ধি এলো। সে বালকটির জীবনের ইচ্ছা জানতে চাইলো। হাতি রাখালকে বললো বাছা তুমি বড় হয়ে কী হতে চাও?
-আমি বড় হয়ে মানুষের সেবা করতে চাই।
-কিন্ত কেনো বাছা? তুমি রাজা হতে চাও না?
-না! আমি রাজা হতে চাই না। আমার কাছে মানবসেবাই পরম ধর্ম। বালকের কথায় হাতি খুশি হলো। সে বালকের সততায় মুগ্ধ। হাতিটি বালককে বনের গুপ্তধনের সন্ধান দিলো। কিন্তু বালকটি লোভ করেনি। সে অল্প পরিমাণ সোনার মোহর ছাড়া কিছুই নেয়নি। যদিও সেখানে  হিরে-মুক্তো সহ মূল্যবান গহনা ছিল। হাতিটি  বালকের   এই সততা দেখে আরও বেশি মুগ্ধ হলো। এভাবেই চলে গেলো অনেক দিন। রাখাল বালক আবারো এলো বনে। এবার আর সে একা আসেনি। সাথে তার বন্ধুও এসেছে। কিন্তু রাখাল বালকের বন্ধু লোভী। সে মনে মনে ভেবেছ যে, সে দামী সব গহনাপত্র, হিরে-মুক্তো নিয়ে আসবে।গুপ্তধনের পাহাড়ের চূড়ায় উঠতেই হাতির সাথে তাদের দেখা। রাখাল হাতির সাথে মত বিনিময় করে পাহাড়ের ভেতরে মন্ত্র বলে প্রবেশ করলো। রাখাল এবারও অল্প সোনার মোহর নিলো। কিন্তু তার বন্ধু বেশি সম্পদের লোভে চলে গেলো পাহাড়ের অজানা প্রান্তে। রাখাল তাকে খোঁজতে খোঁজতে হয়রান। কোথাও তাকে খোঁজে পেলো না। রাখাল হাতির কাছে তার বন্ধুর খোঁজ করল। হাতিটি একটি গোহার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। ছোট কুয়োর পানিতে তারা দেখলে যে, রাখালের বন্ধু পাথরের মূর্তি হয়ে গেছে। কেননা সে লোভ করে পাহাড়ের কন্যা "মালতির" গয়নায় স্পর্শ করেছে। রাখাল বললো, এখন উপায়? আমার বন্ধুকে কী করে বাঁচাব? হাতিটি বললো, এখন কোনো উপায় নেই!  যারা বেশি লোভী তাদের জীবন এভাবেই ধ্বংস হয়! কেননা লোভের ফল অতি ভয়ংকর! তাই কখনো লোভ করতে নেই। অল্পতেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়। রাখাল নিরুপায় হয়ে গাঁয়ে ফিরে আসে। অতি লোভের ফলে বন্ধুকে হারিয়ে রাখাল অনেক দুঃখিত। 

0/Post a Comment/Comments

Please do not enter any spam link in the comment box.

Stay connected

FACEBOOK- Fans Like
TWITTER- Followers Follow
YOUTUBE- Subscribers Subscribe

Subscribe us

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner