খোকার আম খাওয়া,,
আব্দুল্লাহ বিন রওহা তুহিন,
ইশ!আমাদের যদি আম গাছ থাকত,তাহলে কত মজাই না হতো!আম খাওয়া কী চারটে খানি কথা?মজার আম পাবো কীভাবে?মুখের কথার ছয়-নয় করে বলছে খোকা!আম খেতে তার বড্ড ইচ্ছে করছে।নিজেদের আম গাছ নেই বলে তা পারছে না।বর্ষাকাল হয়ে এসেছে সারাদিন বৃষ্টিতে ভিজে যে দু-পাঁচটা আম পায় তা দিয়ে মন ভরে না খোকার।গিন্নি বুড়ির থোকা থোকা মিষ্টি আম খেতে ভীষণ মিঠা।খোকা বুড়ির আম খেতে বেকুল।কিন্তু বুড়ির যে খোকা চোখের বিষ!কখনো একটা আম দেয়নি।আম তো দুরের কথা!জাম গাছের জাম পেকে মাটিতে পরে যায়।তবুও বুড়ি কেউকে দেয় না।খোকা বুড়ির আম খাবেই খাবে।সে যে কোনো মূল্যই হোক না কেন!খোকা আট বছরের ছেলে হলেও বুদ্ধিতে সেরা।মা-বাবার চোখের মণি।যাক'গে,একদিন বুড়ি খোকাকে ডেকে নিয়ে বলল,পুচকে আমার আম গাছের আম পেরে দিবি?তোকে দুটো আম দেবো...দরকার হলে জামও দেবো।একথা শুনে মনে মনে ফন্দি করলো।এমনি ফন্দি করবে যে,দুটো নয় দশ দশটা খেতে পারবে।বুড়ির কথা মতাবিক আম গাছে উঠলো খোকা।আম গাছে উঠে বলল খোকা,
আম গাছে আম অনেক খেয়েছে বাদুর-পাখি
বাদুর মামার খাওয়া আম,খেতে মানা কি!
এই কথা বারবার উচ্চসুরে বলতে লাগলো।আর নিচে থেকে বুড়ি ভাবলো,তার বেশির ভাগ আম বাদুরে খেয়েছে।তাই ঠিক করলো বাদুরে খাওয়া আম খোকাকে দিবে।আসলে খোকা আমগুলোকে এমনভাবে করছে যে,সত্যি মনে হবে যেন বাদুরে খেয়ে।এটা ছিলো খোকার বুদ্ধি!নিচে নেমে বুড়ির কাছ থেকে আমগুলো নিয়ে বাড়িতে চলে গেলে।মনের মাঝে গান বেজে উঠলো...
বোকা বুড়ি বোকা বুড়ি,তুমি যে বড্ড বোকা!
আমি যে ছোট্ট খোকা,তোমার দিলাম ধোকা।


Post a Comment
Please do not enter any spam link in the comment box.