একজন মানিকের গল্প-ছোট গল্প

 একজন মানিকের গল্প

      - আজহার মাহমুদ

কুড়ি বছর আগের কথা। মানিকের মা তখন মৃত্যুশয্যায়। ঠিক এক মিনিট আগে মানিক পৃথিবীতে এসেছে। আর এক মিনিট পর তার মা পৃথিবীর মায়া ছেড়ে পরপারে চলে গেল। পৃথিবীতে বোধহয় এর চাইতে কষ্টের আর কিছু নেই। আর সত্যিই তো যার বাবা মা নেই তার পৃথিবীতে কে বা আছে? 
ওহ, মানিকের বাবার কথা তো বলা হয়নি। মানিকের বাবাকে সে জন্মের আগেই হারিয়ে ফেলেছে। সে যখন তার মায়ের গর্ভে, তখন মানিকের বাবা কবরে শুয়ে আছেন। তবে মানিক এসব কথা জানতো না। কারণ মানিকের আজ বাবা-মা দুটোই আছে। 
হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন। একটি পরিবার দত্তক নিয়েছে তাকে। মানিককে যে পরিবার দত্তক নেয়, তাদেরও একটা সন্তান ছিলো। মানিকের ১৩ মাস আগে তার জন্ম।
মানিকের বাবার নাম মো. আনসারী সাহেব আর মায়ের নাম শেফা বেগম। তবে শুরুতেই আনসারী সাহেব মানিককে নিতে চাননি। কিন্তু তার স্ত্রীর অনুরোধে বাধ্য হলেন। কারণ তার স্ত্রীর মানিকের প্রতি একটু মায়া লেগেছে। সেদিন যদি মানিককে তারা দত্তক না নিতো তাহলে হয়তো আজ সে কোনো এতিমখানায় বড় হতো। তখন গল্পটি অন্য রকম হতে পারতো। 
যা হোক, মানিক আস্তে আস্তে বড় হয়। আর সে জানে আনসারী সাহেব তার বাবা, আর শেফা বেগম তার মা। 
২০১০ সালে মানিকের একদম ছোট ভাইটি জন্ম নিলো। মানিকের এখন থেকে তিন ভাই এক বোন। 
আনসারী সাহেবও মনে করেন তার তিন ছেলে আর এক মেয়ে। কারণ তিনি মানিককে পছন্দ করেন না। তার হৃদয়ের টুকরা তিন ছেলে আর এক মেয়ে। বিশেষ করে বড় ছেলে আর একটি মাত্র মেয়েটা তার প্রাণ।  আনসারী সাহেবের বড় ছেলের নাম মাসুম। তাকেই বেশী আদর করেন আনসারী সাহেব।
যদিও মানিকের মা মায়া করে তাকে দত্তক নিয়েছিলো, কিন্তু সন্তান বেড়ে যাওয়ার পর তিনিও কেমন জানি স্বার্থপর হয়ে গেলেন। তার কাছেও মানিকের জন্য কোনো সময় ছিলো না। আর আনসারী সাহেব? তিনি-তো কোনো একটা অজুহাত নিয়ে তাকে পেটাতেন। এভাবে মানিকের প্রতি অবহেলাটা ছোট থেকেই শুরু হলো।
অবশ্য মানিকও ছোট বেলায় প্রচুর দুষ্ট ছিলো। কখনো টাকা চুরি করা, কখনো রান্না ঘর থেকে খাবার চুরি করা, রাতের বেলা বাইরে যাওয়াসহ নানান দুষ্টমি সে করতো। তাই মানিক মনে করতো তার অপরাধের শাস্তি দিচ্ছে তার বাবা। কিন্তু মানিক একই অপরাধের জন্য চাচাদের হাতেও মার খেত। মানিকের শরীরে আঘাত করেনি এমন কেউ নাই তার বংশে। অবশ্য মানিক তো সে বংশের কেউ না। যদিও একথা মানিক জানে না।
একসময় মানিকের বড় ভাইও জানতে পারে মানিক তার আসল ভাই নয়। সেই থেকে তার বড় ভাইও ছলে-কৌশলে তাকে বিপদে ফেলে এবং তার বাবার হাতে মার খাওয়ায়। কারণ মানিকের বড় ভাইও জানে, তার বাবা মানিককে অপছন্দ করে। তবে সে হিসেবে মিসেস আনসারী অনেকটা ভালো। যদিও তিনি নির্যাতন করেননি তা নয়, তবে আনসারী সাহেবের তুলনায় তা অল্প। 
একদিন মানিককে তার বাবা আর মা মিলে কোনো এক অপরাধের কারণে- তার হাত দুটো গাছের সাথে বেঁধে চার ইঞ্চি মোটা একটি লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেঠাচ্ছে। তখন মানিককে কেউ বাঁচাতে আসছে না। 
মানিক তার বড় ভাইকে বলছে- ভাইজান, ভাইজন আমাকে বাঁচাও। আমি আর কখনো এমন ভুল করবো না। 
মানিকের ভাই তখন বলে- আব্বু ওরে আরো মারেন। মেরে শেষ করে ফেলেন। 
একথা বলেই বড় ভাই ভেতরে চলে গেলো।
মানিক সেদিন বুঝতে পারে পৃথিবীতে তার বড় ভাই বলতে কিছু নাই। এভাবে বড় ভাই থেকে শুরু করে পরিবারের সবাই তাক অবহেলা করে। সেদিন মানিকও বেধড়ক মার খেল। এতটা মার একটা জেলখানার কয়েদিও খায় বলে মনে হয় না। 
মানিক তবুও এর মূল রহস্য বুঝতে পারে না। আর বুঝবেই বা কী করে। সে তো এখনও ছোট।
মানিক যখন অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে, তখন তার বাবা তাকে একটা চাকরিতে ঢুকিয়ে দেয়। কারণ সে পড়ালেখা করুক এটা আনসারী সাহেব চাইতেন না। 
একদিন রাতে আনসারী সাহেব তার স্ত্রীকে বলছেন- কেন পরের ছেলেটাকে এতো পড়াতে হচ্ছে?
আনসারী সাহেবের স্ত্রী বলেন- মানুষ কী বলবে। সবাই বলবে, নিজের ছেলেদের পড়াচ্ছে, আর দত্তক নেওয়া ছেলেটাকে পড়াচ্ছে না। 
আনসারী সাহেব বলেন- লোকে কি বলে এটা দিয়ে আমি কি করবো? আমি ওরে আর পড়াবো না।
আনসারী সাহেবের স্ত্রী বলেন- সমাজে মুখ কিভাবে দেখাবেন। এটা মানসম্মানের একটা বিষয়।
এটা শুনে আনসারী সাহেব একটু চিন্তায় পড়লেন। কারণ তিনি সমাজে একজন সম্মানীয় ব্যক্তি। 
অনেক ভাবার পর মানিনকে আবারও পড়ার ব্যবস্থা করে দেন তিনি।
তবে এতো কিছু মানিক জানে না। মানিক মনে করে সব তার বাবার মর্জিতে হচ্ছে। 
জেএসসি পরীক্ষার পর মানিক তার চাচার বাড়িতে বেড়াতে যায়। মানিককে দেখে তারাও কেমন জানি করে। কেউ ভালো করে কথা বলতে চায় না। তার চাচাতো ভাইয়েরা বোধহয় মনিকের আসল পরিচয় জানে। তবে মানিক তো আর জানে না। যা-ই হোক, কিছু সময় পর মানিকের চাচা বলে- তুই বেটা জীবনে যা মার খেয়েছিস, তা আমাদের চৌদ্দগুষ্টির সবাই মিলেও খায় নাই।
মানিক আবার বেশ পটু আর লজ্জাহীন ছেলে। রাগটা বেশি তবে লজ্জাটা কম। তাই চাচার কথায় লজ্জা না পেয়ে উল্টা ঠাট্টা করে বলে- আপনার চৌদ্দগুষ্টিতে কি চাচা আমি নেই? 
মানিকের চাচা স্পষ্ট গলায় জবাবা দেয়- না, নাই। 
এ কথা শুনে মানিকের মুখ রাগে লাল হয়ে উঠেছে। এটা তার চাচা খেয়াল করেছে। কিছুক্ষণ পর তার চাচা বলে- আরে আমি তো মজা করেছি। তুইও আছিস।
তবে সেদিন থেকে মানিক অনেকটা নিজেকে নিয়ে সন্দেহ শুরু করেছে। একটা সময় মানিক আন্দাজ করতে পেরেছে, তাকে তার পরিবারের কেউ ভালোবাসে না। মানিক এটা কাউকে বুঝতে দেয় না। এরপর মানিক সবার মন জয় করার চেষ্টা করবে বলে একটা প্রতিজ্ঞা করেছে। কিন্তু সেটাও তার বাবা তাকে দিলো না। তার বাবা তাকে এতোটাই অপছন্দ করতো, অষ্টম শ্রেণির পর তাকে জেলস্কুল নামক একটি স্কুলের হোস্টেলে রেখে চলে আসে। র্দীঘ দুই বছর মানিক সেখানে চোখের জল ফেলে বাবা-মা পরিবার ছেড়ে ছিলো। প্রতিদিন রাতে বিছনায় শুয়ে তার বাবা-মায়ের কথা মনে করে কাঁদতো সে। সকালে উঠে মানিক দেখে- বালিশে চোখের জল পড়ে দাগ হয়ে গেছে । তবুও দেখা মিলতো না পরিবারের কারো। 
দুই বছর পর মানিক এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে হোস্টেল ছেড়ে চলে এলো। হোস্টল থেকে আসার পর মানিক অনুধাবন করে তার পরিবারের মানুষ তার সাথে তেমন কথা বলছে না। সবাই তাকে অবহেলা করছে। এরমধ্যে মানিকের পরিবারের সবাই জানতে পেরেছে মানিক তাদের আপন কিংবা রক্তের কেউ না। আনসারী সাহেব হয়তো কোন একদিন তার পরিবারের সবাইকে এ-কথা জানিয়ে দিয়েছিলেন। 
মানিকের বাবা এবার তাকে কলেজে ভর্তি করিয়ে দিচ্ছেন না। এবার তিনি প্রতিজ্ঞা করেছেন তার কাছ থেকে তার স্ত্রী মানিকের জন্য টাকা নিতে পারবে না।
তবে এবারও সমাজের কথা চিন্তা করে মানিকের মা তার বাবার কাছ থেকে টাকা নিয়ে  মানিককে কলেজে ভর্তি করিয়ে দিলো। 
কোনো রকম কলেজে ভর্তি হলো মানিক। পড়া শুরু করে দেয়। এরমধ্যে মানিক আরও গভীরভাবে বুঝতে পারে সে পারিবারের কাছে কিছুই না। এটা ভেবে সে অনেক কষ্ট পায়। সে রোজ এটা নিয়ে ভাবতে থাকে। 
হঠৎ একদিন মানিকের সাথে দেখা হলো এক অপরিচত লোকের। তিনি মানিকের নাম, তার বাবার নাম, মায়ের নামসহ তারা কয় ভাই, কয় বোন সব কিছু অকপটে বলে দেয়। তখন মানিক বলে- আপনি কে? 
লোকটি বলেন- আমি তোমার দাদার মতো।
মানিক বলে- আমাকে চিনলেন কীভাবে? 
লোকটি বলের- শুধু তোমাকে নয়, তোমার সবকিছুই আমি জানি।
মানিক বলে- আমার সবকিছু আবার কী? 
লোকটি বলেন- তুমি যাদের বাবা-মা বলে জানো, আর যাদের ভাই-বোন বলে জানো, তারা তোমার আপন কেউ নয়। তোমার মা মারা যাওয়ার পর ওনারা তোমাকে দত্তক নেয়। 
মানিক বলে- আমার বাবা কোথায়?
লোকটি বলেন- তোমার বাবা তোমার জন্মের আগেই মারা গেছেন।
মানিক তখন একটু চিন্তিত। মানিকের কথাগুলো শুনে প্রচন্ড রাগ হলো। সে লোকটিকে খানিকটা ধমকের সুরে বলে- আপনি আমাকে এসব কথা কেন বলছেন?
লোকটি বলেন- দেখ, তোমার আসল পরিচয় তোমার জানার প্রয়োজন আছে। তাই বললাম। 
এ বলেই লোকটি চলে গেলো। মানিক কিছুক্ষণ পর লোকটিকে আর খুঁজে পেল না। এরপর মানিক ভাবতে থাকে এসব কথা বাসায় বলবে নাকি বলবে না। তবে লোকটার কথা অল্প অল্প বিশ্বাস করতে থাকে। কারণ তার পরিবার তার সাথে সারা জীবন এমন আচরণই করে আসছে। তবে একথাটি পুরোপুরি বিশ্বাস করেছে সেদিন, যেদিন তার ছোট ভাই তাকে মেরেছে। 
হ্যাঁ। এটাও হয়েছে তার সাথে- বড় ভাই আর তার মা তাকে ধরে রেখেছে। আর ছোট ভাই মারছে সুন্দর মতো। বাহ! কী চমৎকার দৃশ্য। এ না হলে রক্তের সম্পর্ক। মানিক রাতে তার বাবাকে বিচার দিলে, তার বাবা এসে বিচারের নামে একটা নাটকের আয়োজন করেছে। যে নাটকে ওরা সকলেই অভীনেতা, শুধু মানিক একজন দর্শক। 
মানিকের ভেতর থেকে রাগটা তখনও যায় নি। পরের দিন মানিক এটা নিয়ে আবার তার বাবার কাছে বলতে গেলে তার বাবা উল্টা তাকে পেটায়। 
সেদিন মানিক বুঝে যায় সে তার পরিবারের কেউ না। তবুও জীবনের তাগিদে বেঁচে থাকার জন্য থেকে যায়। মাঝে মাঝে মানিকের ইচ্ছা করে আত্বহত্যা করে পৃথিবীতে থেকে চলে যেতে। কিন্তু পারে না। কারণ আত্বহত্যা নাকি মহাপাপ। যার কারণে মানিক এখনও পৃথিবীতে বেঁচে আছে।
দেখতে দেখতে মানিক এইচএসসি পাশ করে। কোনো ধরনের কোচিং, প্রাইভেট ছাড়াই তার বড় ভাইয়ের সমান পয়েন্ট পেয়ে পাশ করে। এটা দেখে তার বাবা-মা খুশি হলো না। তারা মনে করেছে মানিক ফেল করবে আর সেদিন তাকে আবার পেটাবে। তবে সে আশা পূরণ হলো না তাদের। 
এরপর মানিক লক্ষ্য করে তার বড় ভাইকে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে পাড়াচ্ছে আর মানিককে ন্যাশনালে পড়তে বাধ্য করছে। মানিকের স্বপ্ন ছিলো জার্নালিজম নিয়ে পড়াশোনা করবে। কিন্তু সেটা তার বাবা হতে দেয়নি। বড় ভাই আর তার বাবা মিলে জোর করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দিলো।  এবার ভার্সিটিতে ভর্তির পর মানিককে দিচ্ছে মানসিক চাপ। প্রতিদিন রাতে খাবারের সময় মানকিকে টাকা আয় করার জন্য বলতে থাকে তার বাবা। আর তার ভাই প্রাইভেটে পড়ে অনায়াসে ঘুমায় আর খায়। 
মানিক এরপর নিজের খরচ নিজে চালায়। ঘরে ভাত খাওয়া আর ঘুমানো ছাড়া মানিকের কপালে কিছুই জোটে না। এরপরেও মানিকের প্রতি সদয় নয় তার বাবা। পরিবারের সব কাজ কাজের ছেলের মতো মানিকের মাধ্যমে করিয়ে নেয়। বাজার থেকে শুরু করে, পানি আনা, দোকানে যাওয়া, চাউলের বস্তা মাথায় নেওয়া, ঘর মোছাসহ বাকি নেই কিছু। 
এতো কিছুর পরেও মানিক চেয়েছিলো একটু শান্তি। কিন্তু সেই শান্তি তারা মানিককে দেয়নি। এইতো দিন-দুয়েক আগে তার বাবা আর বড় ভাই মিলে তার সাথে যা তা ব্যবহার করলো। এক পর্যায়ে মানিক চিৎকার করে তার বাবাকে বলে আমি তোমাদের কেউ না। তাই আমার সাথে এমন করছো। এটা বলার পর তার বাবা আর ভাই মিলে তাকে মারে। আর বলে কেউ না যখন তখন ঘরে থাকিস কেন? সেদিন তারা মানিককে ঘর থেকেই বের করে দেয়। আর মানিক ছেলেটাও কত সইবে। এভাবে রোজ রোজ কষ্ট পওয়ার চাইতে একদিনে মরে যাওয়া তার কছে অনেক শান্তির। মানিকের কাছে মনে হচ্ছে, এ কষ্টের চাইতে নরকের যন্ত্রণা হাজার গুন ভালো। আর তাই সেদিন রাতে ঘর থেকে বের হয়ে রেললাইনের উপর শুয়ে ছিলো মানিক। রেল লাইনে মাথা পেতে শোবার সময় অনুভব করছিলো খুব সুন্দর ভাবে ঘুমোতে পারবে সে। আসলেই পেরেছিলো মানিক। তার সে ঘুম পৃথিবীর আর কেউ ভাঙ্গতে পারেনি।
পরেরদিন মানিকের লাশও আর কেউ চিনতে পরেনি। কারণ তার শরীর খুঁজেও পাওয়া যায়নি। ট্রেনের চাকা মানিকের শরীরটি ভয়ংকর ভাবে কেটেছে। যার কারণে মানিকের শরীরের প্রতিটি অংশ টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। যার কিছু টুকরো কাক আর কিছু টুকরো কুকুর খেয়ে ফেলেছে। যা একটা দুটো মানুষ পেয়েছে সেগুলোকে এক করে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে দাফন করে দিল পুলিশ।
আর মানিকের বাবা সবাইকে জানায়, মানিক একটা মেয়েকে নিয়ে পালিয়েছে। এরপর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে তারা বলে- যাক এবার আর পরের ছেলেটার জন্য নিজের ছেলেদের হক গুলো নষ্ট হবে না।
ভেতরের ঘরে মানিকের মা ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে। কারণ মানিককে ওই ঘরে কেউ একটু ভালোবাসলে সেটা তার মা। বাকি সবাই তো পর। আপন তো কেউ না। তাই আপন মায়ের কাছেই মানিক আজ চলে গেল। আর তার মাকে বকা দিয়ে বলবে- আমায় একলা রেখে কেন চলে এসেছিলে মা? তুমি জানো না পৃথিবীটা বড় নিষ্ঠুর?
এভাবেই শেষ হয়ে যায় মানিকের জীবন। ইতি টেনে যায় একটি দত্তক নেওয়া ছেলের। 
তবে এমন হাজারও মানিক এভাবে জীবনের সাথে যুদ্ধ করছে প্রতিনিয়ত। হয়তো কেউ হাল ছেড়ে দিবে, আর কেউ হাল না ছেড়ে এগিয়ে যাবে। কিন্তু দিন শেষে সকলেই জীবননামক বইয়ে সুখের অধ্যায়টা খুলতে পারে না। না, না, না। আমি ভুল বলেছি। খুলতে পারে না নয়, খুলতে দেয় না। হয়তো আমরা কয়েকজন মানিকের সুখের অধ্যায়টা দেখি, কিন্তু হাজারও মানিকের হেরে যাওয়াটা কেউ দেখিনা। এটাই বাস্তবতা।
  

0/Post a Comment/Comments

Please do not enter any spam link in the comment box.

Stay connected

FACEBOOK- Fans Like
TWITTER- Followers Follow
YOUTUBE- Subscribers Subscribe

Subscribe us

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner