দুষ্টু কাক ও মিষ্টি চড়ুই,,
ঝুমা আক্তার
পাশাপাশি দুটি বাসায় বাস করতো কাক ও চড়ুই।কাকের বাসা বাঁশের ঝোপে। আর চড়ুইয়ের বাসা এক ছোট আম গাছের ডালে। কাক ছিল খুব দুষ্টু।সবসময় চড়ুইয়ের ক্ষতি করার নেশায় থাকতো।কী করলে চড়ুই বিপদে পড়বে এটাই ছিল কাকের ভাবনা। কাকের খারাপ ব্যবহার দেখেও চড়ুই কষ্ট পেতো না। বরং সে সবসময় কাকের সাথে মিলেমিশে থাকার চেষ্টা করতো। চড়ুই প্রায় সময়ই না খেয়ে থাকতো। ঠিকমতো খাবার সংগ্রহ করতে পারতো না। আর দুষ্টু কাকের খাবারের অভাব হতো না। সে সারাদিনে যত খাবার সংগ্রহ করে তা খেয়ে আরও রয়ে যেতো। চড়ুই মাঝে মাঝে কাককে বলতো বন্ধু আমি না ভীষণ ক্ষুধার্ত। আমাকে একটু খাবার দিবে কি? কাক চড়ুইয়ের কথায় হাসাহাসি করে আর বলে, কোন দুঃখে তোমাকে আমি খাবার দিব? আর আমি কি খাবার নিজ হাতে তৈরী করি যে তুমি চাইবে আর আমি দিয়ে দিব! কাকের কথা শুনে চড়ুই মন খারাপ করে আশেপাশে খাবারের সন্ধানে ঘুরে। বেশ অনেক্ষন ঘোরাঘুরি করেও কোনো খাবারের সন্ধান পেল না। অন্যদিকে দুষ্টু কাক বাসা থেকে বের হয়েই অনেক মজাদার খাবার সংগ্রহ করে ফেলে। কাক যেমন দুষ্টু তেমন চালাক। চালাক বলেই তো কাকের খাবারের অভাব পড়ে না।মানুষের থেকে খাবার ছিনিয়ে নিয়ে আসে কাক।ছোট বাচ্চাদের হাত থেকে বিস্কিট, পটেটো ঠোঁটে করে নিয়ে আসে। কাক সব সময় নজর রাখে পাশের ঘরের বুড়িটা কখন রান্না বসাবে। বুড়ির পাতিল থেকে মাছ মাংস প্রায়ই দুষ্টু কাকটি নিয়ে আসতো। চড়ুই যদি একটু খাবার খুঁজে আনতো কাক তখন চড়ুইয়ের মন ভুলিয়ে অর্ধেক নিয়ে যেতো। চড়ুই তো বোকা সে বুঝেনা কাকের চালাকি। কাকের বাসা ছিল চড়ুয়ের বাসা থেকে একটু উঁচুতে। চড়ুই কখন কী করতো দুষ্টু কাক তা চেয়ে চেয়ে দেখতো। চড়ুই বাসায় না থাকলে কাক গিয়ে চড়ুইয়ের বাসা ভেঙ্গে দিত। চড়ুই খুব কষ্ট করে পুনরায় বাসা ঠিক করতো। এভাবেই কাক চড়ুইয়ের প্রতি অত্যাচর করে চলেছে। কিছুদিন পর চড়ুইয়ের ঘরে ফুটফুটে এক বাচ্চা হলো। নিজ থেকে তার বাচ্চাকে বেশি ভালোবাসে।বাচ্চাকে বাসায় রেখে চড়ুই অনেক দূরে খাবার খুঁজতে যেতো। নিজে না খেলেও তো বাচ্চাকে খাওয়াতে হবে। বাচ্চা বাসায় একা এর জন্য চড়ুই খুব চিন্তা ও করতো। কখন কী ঘটবে! কাক চড়ুইয়ের বাচ্চা দেখে হিংসেতে জ্বলে পুড়ে শেষ।কাক মনে মনে অনেক কিছু ভাবছে কিভাবে চড়ুইয়ের ক্ষতি করা যায়। সকালে ঘুম থেকে উঠেই কাক চড়ুইয়ের বাসার দিকে তাকিয়ে আছে কখন চড়ুই খাবার খুঁজতে যাবে। আর সেই সুযোগে তার বাচ্চাকে খাবে। চড়ুই কাকের মতলব বুঝতে পারেনি। সে খাবার খুঁজতে বের হলো। এই ফাঁকে কাক বাচ্চাকে ধরে খেয়ে ফেলল। বাচ্চাটি অনেক কান্নাকাটি করলো। নিজের ভাষায় মাকে খুব ডাকলো। মা শুনতে পেল না। মা চড়ুই তো খাবার খুঁজতে অনেক দূর গেছে। মিষ্টি চড়ুয়ের বাচ্চা ছিল আর ও বেশি মিষ্টি ও সুন্দর। ফুটফুটে তার চেহারা। বাচ্চাটি খেয়ে কাক দূরে উড়ে গেল।প্রতিদিনের মতো চড়ুই খাবার নিয়ে বাসায় ফেরার জন্য উড়তে শুরু করলো। অন্যদিনের থেকে আজ বেশি খাবার পেয়েছে তাই চড়ুইয়ের মন খুশিতে ভরে গেল। বাসায় ঢুকতেই চড়ুইয়ের মুখ কালো হয়ে গেলো। তার বাচ্চাকে দেখতে পাচ্ছে না। এদিক ওদিক খুঁজলো বাচ্চাকে কোথাও পেল না। কাকের বাসা ও দেখল কিন্তু কাকটা বাসায় নেই। চড়ুই কী করবে বুঝতে পারছে না। চড়ুই তার বাচ্চা হারিয়ে খুব কষ্ট পেয়েছে। বসে বসে কান্না করছে। হঠাৎ দেখে কাক বাসায় আসলো।কাককে বলল, কাক ভাই আমার ফুটফুটে বাচ্চা টা কোথায় তুমি কি দেখেছ? কাক বলল, কী বোকার মতো প্রশ্ন! তোমার বাচ্চাকে আমি কিভাবে দেখব? আমার কি কোনো খেয়ে-দেয়ে কাজ নেই? উল্টো চড়ুইকে বকাঝকা করছে দুষ্টু কাক। হঠাৎ চড়ুই কাকের বাসার পাশে পাখির পালক দেখতে পেলো। খুব ছোট পাখির বাচ্চার পালক। চড়ুইয়ের আর কিছু বুঝতে বাকি রইলো না। কাক যে তার বাচ্চাকে খেয়েছে এ কথা চড়ুই বুঝে ফেলল। সে কাকের এই নির্মম ব্যাবহার দেখে কাককে একটা কথাই বলল, কাক তোমার এই চালাকি বেশি দিন থাকবে না। অন্যের ক্ষতি করার ফল একদিন তোমাকে ভোগ করতেই হবে।তুমি আমার বাচ্চাকে খেয়েছো তুমি খুব দুষ্টু। তুমি ভালো না, কাক তুমি ভালো না। এই বলে চড়ুই চলে গেল অনেক দূরে। সে আর দুষ্টু কাকের পাশে থাকে না। দূরে এক বাড়ির ছাদে বাসা বাঁধলো।চড়ুইয়ের ক্ষতি করে কাক তো ভীষণ খুশি। কাক খুশিতে জীবন যাপন করছে। চড়ুই ও বেশ সুখেই আছে নতুন বাসাতে। এই বাসাতে বৃষ্টি পড়ে না ঝড় উঠলেও কোনো ক্ষতি হয় না। তার বাসা খুব মজবুত। মাঝে মাঝে কাকের সেই চালাকির কথা মনে করে চড়ুই খুব কষ্ট পায়। কিছুদিন পর রাতে খুব জোরে ঝড় উঠল। কাক তখন ঘুমাচ্ছিল। ঘুমে থাকা অবস্থায় কাকের বাসা ভেঙ্গে কাক মাটিতে পড়ে গেল। ঘুমে ছিল তাই উড়তে পারেনি। কাকের একটি ডানা ভেঙ্গে গেল।কিছুতেই কাকটা আর উড়তে পারে না। ভাঙ্গা ডানা নিয়ে সে সারাক্ষন বসে থাকে। খাওয়ার মতো কিছুই সংগ্রহ করতে পারে না। একদিন কাকের এমন অবস্থা চড়ুই দেখল। চড়ুইয়ের মনে হিংসে নেই। কাকের প্রতি সে রাগ দেখালো না। বন্ধু ভেবেই কাককে বলল, তোমার এ অবস্থা কিভাবে হলো। কাক তার দুঃখের কাহিনি সব বলল চড়ুইকে। অবশেষে না খেয়ে কাক মরে গেল। চড়ুইয়ের ঘরে আবার একটি বাচ্চা ফুটে।বাচ্চাকে নিয়ে মিষ্টি চড়ুই মহা সুখে দিন কাটাচ্ছে।


Post a Comment
Please do not enter any spam link in the comment box.