Short story Bhoot








ভৌতিক তিন গল্প.....
#যাত্রা_পথে
সে অনেক অনেক দিন আগের কথা। যখন গ্রামের মাঝে কোন টিভি তো অনেক দূরের কথা কারো বাড়িতে সেই জামানর রেডিও ছিলো না। না ছিলো বিদুৎ। তখন মানুষ বিনোদন হিসেবে দেখতো- পালা গান, জারি গান, যাত্রা, মঞ্চ নাটক। গ্রাম্ম ভাষায় একটা কথা ছিলো- যাত্রা দেখে ফাত্রারা।

তেমনি এক ফাত্রা যাত্রা দেখে গভির রাতে বাড়ি ফিরছিলো। সে সময় মানুষ হেটে যাতায়াত করতো। তো ওই ফাত্রাও হেটে আসছে একা একা। অনেক দূর বাড়ির পথ। গভির রাতে একা একা পথ চলা খুব ভয়ংকর ছিলো। সে খায়াল করলো অনেক রাত চারিদিকে কোন শব্দ নেই। নেই কোন মানুষের যাতায়াত। ভিতরে ভিতরে কিছুটা ভয় অনুভোব করলো। রাস্তার পাশে দেবদারু গাছ গুলা এমন ভাবে দাঁড়িয়ে আছে রাতের আধারে মনে হয় হয় বিশাল দত্তরা দাঁড়িয়ে আছে। মাঝেমাঝে নিশব্দতার মাঝে দেবদারু গাছে বসে থাকা বাদুর গুলা শব্দ করে উঠে। মনের মাঝে হঠাৎ করে কামোর দিয়া বসে। মনে হয় কি যেন এখন আসবে।

কিছু দূর যাওয়ার পর আবার শুনে শেয়ালের ডাক। তার সাথে শুনতে পায় বাচ্চার গলার কান্না। তার ত ভয়ে সারা শরীলের লোম দাঁড়িয়ে যায়। সে খেয়াল করল আশেপাশে কোন বাড়ি নেই। তো এই বাচ্চার কান্না আসে কোত্থেকে।
লা ইলা হা ইল্লাল্লাহ..  পড়তে পড়তে সে হাটতে থাকে। কিন্তু মনের মাঝে যে ভয় বসে আছে তা কিছুতেই সরছে না। সে একটু ভাল করে নিজেকে ঠিক করে নিলো। আর ভাল করে খেয়াল করতে লাগলো যে কান্না টা কি সত্যি সে শুনছে নাকি অন্য কিছু। সে সত্যিই শুনছে রাস্তার পাশে একটা বাঁচ্চা  শুয়ে শুয়ে কাঁন্না করছে। দেখে তো সে অবাক এত রাতে এখানে বাচ্চা এলো কি করে। তার সারা শরীলের লোম আবার দাঁড়িয়ে গেলো। কি করবে ভেবে পাচ্ছে না। মনে মনে ভাবলো এভাবে রেখে যাওয়া টা ঠিক হবে না। যেই ভাবা সেই কাজ। বাচ্চা টাকে তুলে নিলো। দুই হাতের উপরে কুলেকরে সে হাঁটতে লাগলো। বাচ্চা কাঁন্না তখন থেমে গেছে দেখে সে খুশি হয়ে হাটতে লাগলো। কিছু দূর যেতেই সে অনুভব করলো তার হাঁটার সাথে সাথে কি যেন হাঁটছে। আবার কিছুটা শব্দও পেলো। মনে হচ্ছে কিছু একটা মাটিতে হেচড়ে তার সাথে চলছে। ভয়ে সে আর হাঁটতে পারে না। শরীল যেন শক্ত কাঠ হয়ে গেলো। আর মনে মনে ভাবছে আজ বুঝি আর রক্ষা নেই। আজ আমি এখানেই শেষ।

সেই হেচড়ে চলা শব্দ টা খেয়াল করার জন্য নীচের দিকি তাকালো। বেলে জ্যোৎস্নায় সে দেখলো যে বাচ্চাটার দুইটা পা মাটিতে ঝুলে আছে। যাকিনা হেচড়ে পরছে। সমস্ত শরীল যেন ভার হয়ে গেলো তার। মনে মনে আল্লাহ কে ডাকবে সেটাও পারছে না। কোন রকমে মাথা তুলে বাচ্চার,  বাচ্চা না এখন বলি সয়তান টার দিকে তাকালো। দেখে মস্ত বড় মুখে সে হাসছে। এই দেখে তার দাতে দাত বারি খেতে লাগো পা দুটি ভয়ে কাপছে। ও মাগো ও বাবা গো বলে দৌড়ে পালাতে লাগলো। কিছু দূর গিয়ে বেহুশ হয়ে পরে যায়।

#বনের_বাঘে_খায়না_মনের_বাঘে_খায়।

বন্ধুরা মিলে আড্ডা দিচ্ছে বিকেল বেলায়। কথায় কথায় অনেকে অনেক কিছুই বলছে। কে কার জীবনে কি করছে কত বড় কাজ করছে তা সবাই বলে যাচ্ছে। কে কেমন সাহসী সেটাও বলতেছে। তো এক বন্ধু আরেক বন্ধুকে বলছে তুই এত্ত সাহসী হলি কবে থেকেরে। তোর তো কোন সাহসের কাজ দেখি নাই আজ পূর্যন্ত আর তুই এত্ত চাপা মারতেছিস।
- আরে তুই কি জানছ আমার সম্পর্কে?
-আচ্ছা চল আজ তোর সাহসের পরীক্ষা নেয়া হবে। তুই রাজি আছস বল।
- হ্যাঁ আছি বল কি করতে হবে।
- তুই আজ রাত ১২ টায় এই লাঠিটা শ্মশান ঘাটে গিয়ে মাটিতে পুতে আসবি। এতে করে দেখবো তুই কতটা সাহসী ছেলে। আর কোন রকমের চালাকি করবি না। কাল সকালে আমার গিয়ে দেখবো লাঠি আছে কিনা শ্মশানে।
-মনে মনে তো বারটা বেজে গেলো। আজ মনে হয় চাপা টা একটু বাশী হয়েগেছে। যাই হোক সম্মান রক্ষা করতে হলেও তো এখন কাজ টা করতে হবে।

সবাই চলে গেলো যার যার বাড়িতে। এখন বিপদে পরে আছে। কি করে কি করা যায় ভাবতে ভাবতে রাত ১২ টা বেজে গেলো। একা একা শ্মশান ঘাটের দিকে এক পা সামনে ফেলে তো দু পা পিছনে। মনের মাঝে ভয় অনেক। তবুও কিছুই করার নেই। এই করতে করতে পৌছে গেল শ্মশান ঘাটে। ভিতরে গিয়ে দাড়াতেই হাত পা কাপাকাপি শুরু হয়ে গেলো। কোন রকমে বসে লাঠি টা ঘাড়তে লাগলো। যেই পুতা শেষ উঠতে গিয়ে থেমে গেলো। মন টা কমড় মেরে বসলো। উউফফফ....... কে যেনো লুঙ্গি টা ধরে রাখলো। আর নরতে পারে না। ( বসার সময় লুঙ্গির নিচের অংশ সহ সেই লাঠিটা পুতে ফেলে) হাত পা কাপাছে শরীল দিয়ে ঘাম ঝরছে। আজ আমি আর বাঁচবো না। আমি মনে হয় আর বাড়িতে ফিরতে পারবো না। হাউ মাউ করে কেদে লুঙ্গি রেখেই দৌড়ে পালায়। সকালে অন্য সব বন্ধুরা মিলে শ্মশান ঘাটে যায় দেখার জন্য। গিয়ে দেখে শুধু লুঙ্গি পরে আছে মাটিতে এই দেখে তারাও দৌড়ে পালায়।

#নৌকা_ভ্রমন
আগের দিনে গ্রামে গঞ্জে দেখা যেত ফকিরদের। ফকির বলতে, যারা জারফোক করত। ভূত প্রেতের সাথে কথা বলতো। তেমনি এক ফকির ছিলো যে নাকি অনেক কিছুই জানত। এক দিন অনেক রাতে তারা নৌকা করে বাড়ি ফিরছিলো। নৌকার এক পাশে সেই ফকির। আর অন্য পাশে তার বন্ধু বসে আছে। ফকির নৌকা চালাচ্ছে আর তার বন্ধু তার  দিকে মুখ করে বসে বসে কথা শুনছে। ফকির মানুষ সে আগে থেকেই খারাপ কিছুর টের পায়। সে বুঝতে পারলো কিছু একটা আছে সামনে। যা দেখলে হয় তো বন্ধুটি ভয় পাবে। তার ভয় কাটানার জন্য সে আগে থেকে কিছু ভয় ভীতির কথা বলতে শুরু করে। বলে দোস্ত জানিস ত ভুত প্রেত আজকাল অনেক হয়েছে। কখন কোথায় থাকে কে জানে। এক কথা শুনা মাত্র চমকে উঠে হঠাৎ করে ফকির ভুতপ্রেতের কথা বলছে কেনো। কোন সমস্যা নাকি। আবার ভাবলো আরে কি হবে আমার সাথে নাম করা ফকিরই আছে। এত্ত বড় ফকির আমার সাথে থাকলে আমার আবার ভয় কিসের। হ্যাঁ দোস্ত শুনি ত এই সব কথা। আজকাল নাকি অনেক হয়েছে। তো জানিস সে দিন দেখি গ্রামের এক পাশে তাল গাছের মাথায় এক পা। আর এক পা গ্রামের অন্য পাশের তাল গাছের মাথায়। এক দত্ত দাঁড়িয়ে আছে। এই কথা বলতে বলতে ফকির দেখে নদীর দুই পাশে দুই পা দিয়ে এক দত্ত দাঁড়িয়ে আছে। ফকিরের চিন্ত হলো বন্ধুর জন্য ও যদি দেখে নিজেকে ঠিক না রাখতে পারে তাহলেত সমস্যা হয়ে যাবে। এই ভেবে ফকির বললো দোস্ত আরে এই সব কিছু না। তুই চিন্তা করিস না আমি আছি।  আর তুই মাথা নিচা করে বসে থাক। এই কথা শুনে ওর মনে আরো সন্ধেহ যাগলো। ফকির কেনো মাথা নিচা করে বসতে বললো। তখন সে দত্তের কাছে চলে আসছে তারা। দু পায়ের নিচ দিয়ে নৌকা নিয়ে যেতে হবে। ফকির বললো আমার সাথে কথা বল আর উপরের দিকে তাকাবি না। যখন নৌকা পায়ের নিচে এসে পরছে তখন ওর মনে চাইল মাথা তুলে দেখতে কি আছে এমন যে ফকির মাথা নিচা রাখতে বললো। চেয়ে দেখে নদীর দুই পাশে দুই পা দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এক বিরাট দত্ত। সে থরথর করে কাপতে লাগলো। ফকির টের পেয়ে বলে আরে ওসব কিছু না। আমি আছি তুই ভয় পাইছ না। কে শুনে কার কথা ভয়ে চিৎকার করে নৌকার মাঝে পরে গেলো।


0/Post a Comment/Comments

Please do not enter any spam link in the comment box.

Stay connected

FACEBOOK- Fans Like
TWITTER- Followers Follow
YOUTUBE- Subscribers Subscribe

Subscribe us

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner