notun prethibe-short-story


নতুন পৃথিবী,,

     - জুয়েল আশরাফ,, 
- জুয়েল আশরাফ,, স্কুলে স্কুলে গরম, ঈদ কিংবা গ্রীষ্মকালীন শীতকালীন ছুটি পড়ার আগেই সাফার একটা পরিকল্পনা থাকে, কী ভাবে ছুটিটা কাটাবে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সমস্যাটা অন্য। হঠাৎ করে লকডাউনের জেরে লম্বা যে ছুটিটা বাড়িতে থাকতে হচ্ছে, 
সাফার খুবই অসহ্য লাগছে। স্কুল বন্ধ, বাইরে খেলতে যাওয়া বন্ধ, কারোর সাথে মিশতে পারবে না। সবখানে নিষেধমালা ঝুলিয়ে দিয়েছে মা। একটু আগে দুপুরের ভাত মা খাইয়ে দিয়ে গেছেন। আর বলেছেন- চুপচাপ শুয়ে থাকতে। এম্নিতেই সাফা ভীষণ দুরন্ত। প্রজাপতির মতো ঘুরে বেড়ানোই তার স্বাভাব। এক জায়গায় বেশিক্ষণ চুপচাপ সে থাকতে পারে না। আজ কতদিন হয়ে গেল বাইরের পৃথিবী দেখে না। কী এক কঠিন অসুখ করেছে পৃথিবীর। হে পৃথিবী তুমি দ্রুত সুস্থ হও। তুমি সুস্থ হয়ে উঠলে আমি স্কুলে যেতে পারব, সবার সাথে খেলতে পারব। শুয়ে থেকে এসবই ভাবে সাফা। কিন্তু এই শুয়ে থাকা তার কাছে বিরক্তিকর। ইচ্ছে করছে বাগানে গিয়ে খেলতে, দৌড়াদৌড়ি ছুটাছুটি করতে। অল্প পরেই সে ঘুমিয়ে পড়ল এবং ঘুমের কিছুক্ষণ পরেই বাবা এসে ডেকে তুললেন। বাবা বললেন, 'ওঠো, জলদি রেডি হয়ে নাও। আমরা বেড়াতে যাব। পৃথিবী থেকে করোনা চলে গেছে।' 
সাফা আনন্দে লাফিয়ে ওঠে। বাবা এখন বেড়াতে নিয়ে যাবেন। নতুন পৃথিবী দেখাবেন। সে খুশি খুশি চোখে অবাক। বাবা আর সে রাস্তায় নেমে হাঁটে। তার বয়সী কত ছেলেমেয়ে রাস্তায় নেমেছে আজ! সবার চোখেমুখে নতুন পৃথিবী দেখার আনন্দ। হাঁটতে হাঁটতে বাবার সঙ্গে চলে এলো মেলায়। বাবা মেলা থেকে বিশাল আকাড়ের একটা বেলুন কিনে দিল। বেলুনটি এত বড় যে, সাফা ধরে রাখতে পারছে না। তাকে নিয়ে বেলুনটি উড়ে যাবার চেষ্টা করছে। বাবা বললেন, 'আমার হাতে দাও। বেলুন তোমাকে নিয়ে উড়তে উড়তে উপরে উঠে যাবে।' 
পাখির মতো উড়ে বেড়ানোর সাফার খুব শখ। সে সবসময় মাটিতে ঘুরে বেড়িয়েছে, কখনো আকাশে উড়ে বেড়ায়নি। আজ সুযোগ এসেছে আকাশে উড়ে বেড়াবার। নতুন পৃথিবী দেখবার। সে বেলুনটি খপ করে বাবার কাছ থেকে  নিল- ওমা! একী! সত্যি সত্যিই বেলুনটি তাকে নিয়ে আকাশের দিকে উঠে যাচ্ছে। আর বাবা নিচ থেকে ছোটাছুটি করছেন তাকে নিচে নামাবার। কিন্তু না, অল্প পরেই বেলুন তাকে নিয়ে বাতাসের সঙ্গে ভেসে বেড়াতে বেড়াতে চলে এলো বহুদূর। কত খাল কত নদী পার হলো সে, কত রকমের পাখির সঙ্গে দেখা হলো। একটা পাখি তো তার পাশ দিয়ে যাবার সময় পরিস্কার মানুষের গলায় বলল, 'নতুন পৃথিবীতে স্বাগতম'। উড়তে উড়তে সে চলে এলো শহরে। কত বড় বিল্ডিং আর কত শত মানুষ। কত রঙের গাড়ি। উপর থেকে সবকিছু কত ছোট দেখাচ্ছে। কত ছোট লাগছে মানুষগুলো। একটু নিচে নেমে এসে দেখল মানুষের খুব ভীড়, যেন মেলা বসেছে। নতুন পৃথিবী দেখার জন্য সবাই ঘুড়ে বেড়াচ্ছে। সাফা এখনই বাড়ি ফিরবে না। আরও ঘুরে বেড়াবে। উড়তে উড়তে সে চলে এলো শিশুপার্ক, এখানে কত ছেলেমেয়ে! দেখে সে তো অবাক! এরপর সে চলে এলো চিড়িয়াখানায়, এখানে এসে উড়ে উড়ে পাখিপশু দেখল। ময়ূর দেখতে এসে সে নিচে নামল। বানরদের বাদরামি দেখতে দেখতে তার খুব হাসি পেয়ে যাচ্ছিল। লকডাউনের ভেতর হরিণের বাচ্চা হয়েছে। সেই হরিণ-শিশু দেখতে এসে ঘটল বিপদ! হরিণ শিশুর মা শিং দিয়ে তার বেলুন দিল ফাটিয়ে। দ্রিম শব্দে বড় আকাড়ের  বেলুনটি চুপসে পড়ে গেল মাটিতে। সাফা ভে ভে করে শুরু করল কান্না। এখন সে বাড়ি ফিরবে কীভাবে! বাবা মা তার জন্য চিন্তা করছেন। তাকে নিশ্চয়ই খুঁজে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু কী আশ্চর্য! কেউ তার মাথায় হাত রেখে তার দিকে ঝুকে এসে বলছে, 'কাঁদো কেন সাফা সোনা? স্বপ্ন দেখেছিলে?' 
সাফা তাকিয়ে দেখে মা। সে কাঁদতে কাঁদতে বলল, 'দুষ্টু হরিণটা আমার বেলুন ফাটিয়ে দিয়েছে।' 
মা হাসলেন। বললেন, 'কোথায় বেলুন? কোথায় হরিণ?' 
সাফা চারপাশ তাকাল, তাই তো! বেলুন কোথাও নেই। নতুন পৃথিবীও নেই। সে নিজের বিছানায় শুয়ে আছে। এতক্ষণ সে স্বপ্নই দেখছিল।
please Follow & Share 

world books collect

0/Post a Comment/Comments

Please do not enter any spam link in the comment box.

Stay connected

FACEBOOK- Fans Like
TWITTER- Followers Follow
YOUTUBE- Subscribers Subscribe

Subscribe us

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner