হাওয়া পরিবার,,
- জুয়েল আশরাফ,,
হাওয়ার বাবা মা দুজনেই চাকরিজীবী। এই বাড়িতে ঘর মোছা, রান্না করা, বাসন মাজার জন্য সব আলাদা আলাদা লোক। বাগান ঝাঁট দেওয়ার জন্যও আরও একজন আছেন। এই চারজনকেই আপাতত ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। করোনাভাইরাস না গেলে বাড়িতে না আসার কথা বলা হয়েছে তাদের। রোজ দুধ দিতে আসত পাড়ারই হাসমত চাচা, তাকেও বলা হয়েছে, এখন আর লাগবে না। যখন দরকার হবে ফোন করা হবে।
'দুধে আবার ভাইরাস আসবে কীভাবে?' প্রশ্ন করে হাওয়া, মায়ের চরম বকুনি খেয়েছে। হাওয়া পড়ে ক্লাশ ফাইভে। লকডাউনের পর থেকে দীর্ঘদিন ধরে স্কুল বন্ধ। শুধুই কি স্কুল বন্ধ, খেলাধুলাও বন্ধ হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে বন্ধ হয়েছে বাইরে ছোটাছুটি। এখন তাই এঘর ওঘর, ছাদের উপর বাগান পর্যন্ত তার আসা-যাওয়া। এর বাইরে যাওয়ার আদেশ নেই। অবশ্য এসব নিয়ে হাওয়ার মনে কোনো দুঃখও নেই। বাবা মাকে সারাক্ষণ সে কাছে কাছে পাচ্ছে। পরিবারের সবাই এখন তার হাতের নাগালে। এতেই সে অনেক সুখী।
বাবার সঙ্গে এখন সে রোজ পত্রিকা পড়ে। বেচারা কাগজের হকার! একগুচ্ছ সংবাদপত্র, নানা ম্যাগাজিন হাতে করে সাতসকালে গদগদ হয়ে আসতো। তাকেও বলা হয়েছিল, এখন আর দরকার নেই। ভুলভাল কে রটিয়েছিল খবরের কাগজে ভাইরাস থাকে, সেই মিথ্যা রটানো খবর বিশ্বাস করে বন্ধ করা হয় কাগজ।
এই বাড়িতে পত্রিকা আসবে না! এই বাড়ির সবাই ভোরের কাগজের পাঠক। বুধবার যদি পত্রিকা না পায়, পুরো দিনটাই মাটি হয়ে যাবে হাওয়ার। ইষ্টিকুটুমের প্রত্যেক সপ্তাহের গল্প তার পড়া চাই-ই চাই। 'করোনাভাইরাস কাগজে ছড়ায় না' জোরালোভাবে বুঝিয়ে পত্রিকা আবার চালু করা হয়েছে।
বাবার অফিস নেই, হাওয়ার স্কুল নেই, বাইরের লোক নেই। কোথাও বেরুনোর তাড়া নেই। সবাই একসঙ্গে সকাল থেকে রাত। এতজন, এতক্ষণ বাড়িতে যে বহুদিন থাকা হয়নি!
বাবাকে সবসময় এখন কাছে পায় হাওয়া। মাঝে মাঝে বাবার সাথে লুডু খেলে, বই পড়ে, টিভি দেখে, গল্প করে। বেশিরভাগ সময় এখন মা রান্নাঘরে ব্যস্ত থাকেন। জমজমাট রান্না ঘর। ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ, ডিনার সবাই মিলে এক টেবিলে।
এমন দিন যে আসবে হাওয়া কল্পনা করেনি! সে মনে মনে ভাবে- ধন্যবাদ লকডাউন, কিছুদিনের জন্য হলেও দিনরাত পরিবারের সবাইকে কাছে পাচ্ছি। বাইরে ভাইরাসের ভয়, কিন্তু বাড়িতে হাওয়ার ভেতরে খুশির আলো।
please Follow & Share
world books collect


Post a Comment
Please do not enter any spam link in the comment box.