আনন্দের অশ্রু,,
তারিকুল ইসলাম লিমন,,
অফিস থেকে ফিরে দরজায় পা রাখতে না রাখতে আদুরীর আম্মুর চিৎকার শুনতে পেলাম। উচ্চস্বরে কথা বলছে। না, ঝগরা করছে না; মেয়েকে শাসন করছে।
এগুলো কী করতেছো তুমি? ঘর কেন এলোমেলো করেছ?
কই নাতো?
তাহলে এগুলো কী? সারা ঘর এলোমেলো করে রেখেছ। কে গোছাবে?
তুমি।
আমি। আর তুমি বার বার সব এলোমেলো করবে? দাঁড়াও দেখাচ্ছি।
এই বলে আদুরীর আম্মু আদুরীর পিছু পিছু ছুটছে আর আদুরী পালাচ্ছে।
আদুরীর বয়স তিন বছর। বড্ড দুষ্ট। ঘর এলোমেলো করেছে বলে আদুরীর আম্মু বকাঝকা করছে। আদুরী হো হো করে হাসছে। যেই না আদুরীর আম্মু আদুরীকে চর দিতে এগিয়ে যাচ্ছে, সেই আদুরী ছুটে পালাচ্ছে। আদুরীর মা ঘর গোছাতে শুরু করে, আবার আদুরী এসে এলোমেলো করে দিয়ে দৌড়ে পালায়। আমি লুকিয়ে লুকিয়ে দেখছি আর কন্যার সাথে হাসছি। এবার কন্যার মা ক্লান্ত হয়ে বসে পড়লো। রাগে তার গা গজ গজ করছে। কন্যার জননীর রাগ তখন গলা পর্যন্ত উঠেছে, মনে হয় একটু পর মাথায় উঠে যাবে। আজ আদুরীর খবর আছে। এমন সময় আদুরী চুপিচুপি তার মায়ের দিকে এগিয়ে এলো, তার মাকে জড়িয়ে ধরে গালে, কপালে চুমু খেতে লাগলো। কন্যার মায়ের ভিতরটা বরফ গলা নদী হয়ে রাগ পানি হতে লাগলো। সেও আদুরীকে জড়িয়ে ধরে কপালে চুমু খেল।
আমি তখন দরজার সামনে নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে মা-মেয়ের ভালবাসার খুনসুটি দেখছি। আমার চোখ ধরে এলো, আমি তাদের ঝাপসা দেখছি। কিছুক্ষণ পর আবিস্কার করলাম আমার চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে। আহারে কি অপরূপ দৃশ্য! চিরকাল যদি দেখতে পেতাম! এমন সুখের অশ্রু সারা জীবন যদি ঝরতো। এভাবে কাঁদার ভাগ্য কজনার হয়? এই আনন্দের অশ্রু ঝরানোর জন্য অশ্রু কারিগরের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বললাম,
‘এমন পবিত্র দৃশ্য দেখুক বার বার আমার দৃষ্টি,
ঝরুক অনন্তকাল নয়নেতে আনন্দের বৃষ্টি।’
আদুরীর জন্মের সময়ের কথা মনে পড়ে গেলো। কি কষ্টই না হচ্ছিল তার মায়ের। একজন মা প্রসবকালে ৫৭ ইউনিটের বেশি ব্যথা সহ্য করেন যা শরীরের ২০টি হাড় ভাঙা ব্যথার সমান। অথচ ৪৫ ইউনিট এর বেশি ব্যথা সহ্য করা কোনো মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। কী আশ্চর্য ব্যাপার!
আদুরী এক সময় সন্তানের জননী হবে। সে তার ছেলেমেয়েদের সাথে খুনসুটি করবে। আবারও একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি হবে।
জয় হোক পৃথিবীর সকল মায়েদের। হে ঈশ্বর, পৃথিবীর সকল মা যেন থাকে দুধে ভাতে। Please- Follow & Share


Post a Comment
Please do not enter any spam link in the comment box.