বর্তমান স্বামী - স্ত্রী / সম্রাট শাহজাহান।
এম রাকিব,,
স্ত্রী: আচ্ছা তুমি আমাকে কত টা ভালবাস?
স্বামী: এটা কোন প্রশ্ন হলো। আমি তো তোমাকে অনেক ভালবাসি। আমার জীবনের চাইতেও বেশি ভালবাসি তোমাকে।
স্ত্রী: না তুমি আমাকে একটুও ভালবাস না।
স্বামী: কেমন কথা বলছো তুমি। আমরা ভালবেসেই তো বিয়ে করলাম। আর তুমি বলছো ভালবাসি না?
স্ত্রী: হ্যাঁ তাই তো। তোমার মাঝে এখন আর সেই ভালবাসা দেখি না।
স্বামী: আচ্ছা এই কথা। তো কি করলে তোমার বিশ্বাস হবে যে আমি তোমাকে এখনও ভালবাসি।
স্ত্রী: কি আর করতে বলবো। আর এটা কি বলে দিতে হয়। পৃথিবীতে কতই না ভালবাসার উদাহরণ আছে। তুমি তার কিছুই কর না আমার জন্য।
স্বামী: আচ্ছা তুমি বলো কি উদাহরণ আছে।
স্ত্রী: এইতো কতই না আছে...
রোমিও - জুলিয়েট, লাইলি - মজনু, সিরি - ফরহাদ। আরও কতকি। আর দেখো সম্রাট শাহজাহান তার স্ত্রী মুমতাজ মহল কে কত ভালবাসতেন। তার ভালবাসার স্মৃতিতে তাজমহল বানিয়েছেন। ভালবাসার নিদর্শন রেখে গেছে পৃথিবীর বুকে। আর তুমি আমার জন্য কি করেছ?
স্বামী: ও এই কথা। তোমার জন্য আমি তো সবই করতে পারি।
স্ত্রী: একদম মিথ্যা কথা। তুমি আমার জন্য কিছুই করতে পার না।
স্বামী: আরে পাগলি শুনো আমার কথা। সম্রাট শাহজাহানের কথাই বলি। তিনি তো তাজমহল বানিয়েছিলেন তার স্ত্রী মুমতাজ মহল মরে যাবার পর।
স্ত্রী: কী.. তুমি কি আমার মরে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছো। তারপর তুমি তোমার ভালবাসা দেখাবে।
স্বামী: আরে না। আমি কি সেই কথা বললাম।
আচ্ছা তুমি কি জানো সম্রাট শাহজাহান মুমতাজ মহল কে বিয়ে করার আগে তিন বিয়ে করেছিলেন এবং তাকে বিয়ে করার পরেও আরো তিন বিয়ে করেছিলেন। মুমতাজ মহল ছিলেন সম্রাট শাহজাহানের সঙ্গী (Consort)। তিনি ছিলেন সম্রাট শাহজাহানের খুব প্রিয় জন। মুমতাজ মহল ছিলেন বুদ্ধিমতী। সকল কাজে তার সহযোগীতা করতেন। তার বিচক্ষণতা দেখেই সম্রাট সব সময় তাকে সাথে রাখতেন।এমন কি যুদ্ধ যাওয়ার সফর সঙ্গীও হতেন। মুমতাজ মহল মাত্র ৩৮ বসর বেচেছিলেন। ১৪ বসর বয়সে তার বিয়ে হয়। তার ৫ বসর পর তাদের বাগদান পূর্ণ হয়। তারমানে তাদের সংসার জীবন কাটে মাত্র ১৯ বসর। আর এই ১৯ বসরে তাদের ছেলে মেয়ে জন্ম নেয় ১৪ জন।
দেখলেতো তারা একে ওপরকে কি রকম ভালবাসতেন। আর তুমি ত আমাকে কাছেই আসতে দাও না। সারাক্ষণ ফেবু নিয়ে থাকো। তাহলে ভালবাসবো কখন।
স্ত্রী: ও তার মানে তোমাকে কাছে আসতেদিলেই বুঝি ভালবাসা হয়ে যায়। তোমার কাছে শারীরিক সম্পর্কটাই বড় না। এটা কেই তুমি ভালবাসা বলো?
স্বামী: আরে পাগলি না আমি সেটা বুঝাইনি।
আচ্ছা আমি যদি আগে বিয়ে করতাম তুমি কি তারপরও আমাকে বিয়ে করতে বা এখন যদি আমি বিয়ে করতে চাই তুমি কি তা করতে দিবে?
স্ত্রী: কখনো না।
স্বামী: তাহলে তুমিই বলো আমার ভালবাসা কি সম্রাটের ভালবাসার চাইতে বড় কি না?
ভালবাসা কখনো কাউ কে অনুসরণ বা অনুকরণ করে হয় না। সেটা যার যার মনের মত হয়ে যায়। আমি অন্যের মত করে তোমাকে ভালবাসতে চাই না। আমি আমার মত করে তোমাকে ভালবাসতে চাই।
এইযে দেখো আমি তোমাকে কতবার পাগলী বলছি। কেনো বলছি জানো? আমি তোমাকে ভালবেসে পাগল। আর পাগলের বউই পাগলী হয়।
স্ত্রী: আমার পাগলটা.... I love You.


Post a Comment
Please do not enter any spam link in the comment box.