মীরার মন ভালো নেই
জুয়েল আশরাফ
মীরাঃ ভালো আছেন?
মাহফুজঃ আম খাচ্ছিলাম, ফরমালিন ছাড়া। আমি ভালো আছি। আপনার মন আজ ভালো?
মীরাঃ না, আজ আরো বেশি করে মন খারাপ হয়ে গেছে। খুব কান্না পাচ্ছে।
মাহফুজঃ উনার সঙ্গে চ্যাট হয় না?
মীরাঃ হুঁ হয়।
মাহফুজঃ উনারও বোধহয় খুব বেশি মন খারাপ।
মীরাঃ না, ও জানে না আমার মন খারাপ।
মাহফুজঃ মন খারাপের উপর নভেল পুরস্কারের ব্যবস্থা থাকলে, এ বছর পুরস্কারটা বোধহয় আপনিই পেতেন।
মীরাঃ হুঁ, শুধু এ বছর না প্রতিবছরই আমি পেতাম। জানেন কিছু মানুষ থাকে যারা কোনোদিন হ্যাপি হয় না। আমি তাদেরই একজন।
মাহফুজঃ সুখ ব্যাপারটাই বিচিত্র, প্রতিটি মানুষের কাছে সুখের আলাদা সজ্ঞা। কেউ মানুষের প্রেম নিয়ে সুখী হতে চায়, কেউ বস্তু নিয়ে সুখী হতে পাগল।
মীরাঃ বস্তু নিয়ে সুখের কথা আমি কোনোদিন চিন্তাও করিনি। আমি এমন একজনকে চেয়েছিলাম যে আমাকে বুঝতে পারে। এতটুকুই দরকার ছিল আমার হ্যাপি হবার জন্য। আচ্ছা কাউকে খুব বেশি বিশ্বাস করা ভুল না অপরাধ?
মাহফুজঃ আমি মনে করি, যে বিশ্বাসে চাওয়া-পাওয়া থাকে না সেখানে অপরাধ বা নিরপরাধ নিয়ে সমস্যা দেখা দেওয়ার কথা না। আপনার এখানে বিশ্বাসটা ছিল ভালোবাসার মানুষটাকে ঘিরে। আর একজনকে ভালোবাসলে, জীবনে পেতে চাইলে বিশ্বাস তাকে করতেই হয়।
মীরাঃ হুঁ, পেতে চাই বলেই হয়তো এত কষ্ট।
মাহফুজঃ দুজনের একজন যখন বিশ্বাস ভঙ্গ করে, তখনি অন্যজন আহত হয়ে 'বিশ্বাস' জিনিসটাকে দোষারোপ শুরু করে।
মীরাঃ হুঁ।
মাহফুজঃ আপনি যাকে জীবন সঙ্গী করতে চেয়েছেন হয়তো সে সম্পর্কটাকে আপনার মতো গুরুত্ব দেয়নি, যে কারণে এখন কষ্ট পাচ্ছেন।
মীরাঃ একটা সময় ছিল আমি ভালোবাসার ঘোর বিরোধী ছিলাম। অথচ আজ আমি কষ্ট পাচ্ছি।
মাহফুজঃ সমস্যা হবে না, কেউ কষ্ট পেয়ে ভালো কবিতা লিখতে পারে। আপনাকে জানবো, এদেশে একজন কবির সংখ্যা বেড়ে গেছে।
মীরাঃ কবির সংখ্যা এমনিতেই খুব বেড়েছে।
মাহফুজঃ কথা ঠিক?
মীরাঃ হুঁ।
মাহফুজঃ এজন্যই তো ভাবি, আমি এত ভালো লিখি অথচ লাইক পড়েনা কেন! সবাই তো কবি, লাইক দেবেটা কে? হা হা হা।
মীরাঃ ভালো বলেছেন।
মাহফুজঃ আমি অপেক্ষায় আছি, যদি কোনো মেয়ে আমার লেখাগুলোকে পাগলের মতো ভালোবাসে তাকে বিয়ে করবো।
মীরাঃ আমি যাকে ভালোবাসি সেও ভালো লেখে। কিন্তু আমার মনে হয় লেখাগুলো আমার জন্য নয়। অথচ তার লেখাগুলোকে আমি ভীষণ ভালোবাসি।
মাহফুজঃ তাহলে তো ঠিকই আছে, সে যাকে নিয়ে লিখে যাচ্ছে তাকেই সে ভাবে। এখানে শুধু আপনার কষ্ট। সে বোধহয় আপনাকে কখনই গভীরভাবে চিন্তা করেনি। তার কোনো দোষ নেই, হয়তো আপনারই বোঝার ভুল।
মীরাঃ প্রতিটি কবিতা লেখার আগে আমাকে বলবে, 'তোমার জন্য লিখছি'। কিন্তু পড়ার পর আমার মনে হয় এই কবিতা তো আমার জন্য না।
মাহফুজঃ আশ্চর্য, তাহলে কি সে আপনাকে শুধু হাতে রেখেছে?
মীরাঃ আমি জানি না।
মাহফুজঃ 'যখনি মন বেদনা হয়
আমার দুয়ারে এসে দাঁড়িও'।
মীরাঃ আমার কষ্টগুলো কখনই শেষ হবে না।
মাহফুজঃ 'মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয়
আড়ালে তার সূর্য হাসে'
আসেন, আমরা দুজনে একসাথে হাসি।
মীরাঃ আপনি হাসেন। আমার কিচ্ছু ভালো লাগছে না। আমি যাই।
মাহফুজঃ আমিও যাই।
মীরাঃ যাই।
মাহফুজঃ যাই।


Post a Comment
Please do not enter any spam link in the comment box.