ফুলের অসুখ,,
খায়রুল আলম রাজু,,
অনেক দিন আগের কথা। পাহাড়ের ঢালে একটি বাগান ছিল৷ ফুল বাগান। জবা, গোলাপ, সূর্যমুখি, গাঁদা , গন্ধরাজ সহ নানান ফুল। বাগানের পাশেই ঝরনা। স্বচ্ছ পানি। ছলাত ছলাত শব্দ। কী দারুণ! ফুলগাছগুলো সারি সারি। একটি দু'টি নয়। এক শতাধিক। বাগানে প্রজাপতির ওড়াউড়ি- লাল, নীল, হলুদ কমলা ও সবুজ রঙের। একটি ফুলগাছ একটি পরিবার। পাশের গাছটি প্রতিবেশী। সবাই মিলে একটি গ্রাম- ফুল গ্রাম। ভোরের আলোয় জেগে ওঠে পাখিরা। পাপড়ি মেলে ফুলগুলো। সুবাসিত হয় চারপাশ। কিন্তু আজ কেউ জাগেনি- ডালিয়া, গাঁদা, গোলাপ, জবা কেউ জেগে ওঠেনি। টুনটুনি বলল, 'কি গো গোলাপ বুবু, সকাল হলো সেই কবে! উঠবে না?'
শালিক বলে উঠল, 'গোলাপ বুবু শরীর খারাপ?'
-না গো সই, শরীর ভালো। মনটা খারাপ। মেয়েটি অসুস্থ। এভাবে চললে আমিও অসুস্থ হয়ে পড়বো।
সবুজ টিয়া বলল, বুবু, গোলাপ মেয়ের কী হয়েছে? কাল তো কী সুন্দর ফুঁটেছিল! বাতাসে দোল খাচ্ছিল, নেঁচেছিল।
-আর বলিস নে বোন, ওই দেখ গাঁদাছানাও অসুস্থ। জবাটিও। ডালিয়ার মেয়ে। গন্ধরাজের খোকা। সবার অসুখ!
-তাইতো, এজন্যই বুঝি আজ কেউ জাগেনি? ভারি আশ্চর্য! এক সাথে সবার অসুখ!
-হ্যাঁ রে বোন, এক সাথে সব্বার অসুখ। ফুলের অসুখ। গাছের অসুখ। বিষয়টি নিয়ে পাখিরা চিন্তিত। শালিক। টিয়ে। বক। টুনটুনি।
-কারণটা কি? হঠাৎ সবার অসুস্থ হওয়ার কথা নয়! টুই ছানা চোখ কুঁচকে ডাকে, সূর্য ভাই, ও সূর্য ভাই।
-কী রে টুই? কেমন আছিস? সাতসকালে ডাকছিস কেনো? মিষ্টি রোদ চাই, তাই না?
-না গো, রোদ চাই নে, সমাধান চাই। দেখো না ফুলের অসুখ। ফুলগ্রামের সব ফুলেরা অসুস্থ।
-ওমা, সে কী অবাক কান্ড!
-শুনো তবে অসুখের কারণ। দেখোনি আজকাল এখানে মানুষজন বনভোজনে আসছে। খাবার খাচ্ছে। পলিথিন, আইসক্রিমের পলি, এটা সেটা ফেলছে। এখানে-সেখানে। এতে দূষিত হয় মাটি, বাতাস, পরিবেশ। ফেলে যাওয়া খাবার পঁচে গন্ধ ছড়ায়। তাইতো ফুলেরা অসুস্থ। পাখিরা বলল, এর সমাধান কী? ফুলেরা সুস্থ হবে না। আগের মতো ফোটবে না? সুভাস ছড়াবে না?
-ফুটবে গো ফুটবে, ঘ্রাণও ছড়াবে।বলছি শুনো, বাগানের নোংরা পলি, পঁচা খাবার পরিষ্কার করতে হবে। এজন্য কাক পাখিদের সাহায্য নিতে পারো। শহরের ডাস্টবিনে ময়লা থাকে। কাকপাখিরাই তো ওসব খেয়ে খেয়ে পরিষ্কার করে। তা না হলে মানুষও অসুস্থ হতো। ফুলের মতো।
সূর্যের কথা মতো কাকপাখিদের ডাকা হলো। পুরো বাগান পরিষ্কার হলো। গাছগুলো স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। পরদিনও সকাল হলো। পাখিরা জাগলো। ফুলে ফুলে ভরে উঠলো বাগানটা।আনন্দে উড়ছিল রঙবেরঙে প্রজাপতি। বাতাসে দোলছিল গোলাপ মেয়ে, গাঁদাছানা, লাল জবা।ডালিয়ার মেয়ে, গন্ধরাজের খোকা।
-সূর্য ভাই ডাকছে, ও ফুলেরা, পাখিরা শোনো সবে, বনভোজনে যারাই আসে সবার উচিত যেখানে-সেখানে, এটা সেটা না ফেলা। অতিরিক্ত খাবার নষ্ট না করা। কিন্তু মানুষ আমাদের কথা শুনে না, বোঝে না। তাই আমাদের কাজ, আমাদেরই করতে হবে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো। আসি গো। সবাই ভালো থেকো। টা টা...।


Post a Comment
Please do not enter any spam link in the comment box.