নেহালের ঈদ আনন্দ-শিশুতোষ


নেহালের ঈদ আনন্দ,,

    সুবর্না আক্তার,, 

দুইদিন পর কোরবানির ঈদ। গত বছরের থেকে এই ২০২০ সালের ঈদটা অন্যরকম। কেননা করোনার সর্বগ্রাসী থাবা বিশ্বের প্রতিটি আনন্দকে মাটি করে দিচ্ছে। তারপরও সবাই সুস্থ থাকার, আনন্দে থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছে। নেহালের বাবা মায়ের মন খারাপ ছেলেকে এবার ঈদেও নতুন কাপড় কিনে দিতে পারেনি। কয়েক মাস ধরে টিভিতে কোভিড-১৯ নিয়ে অনেক খবর হচ্ছে। অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে এই রোগে। তাই নেহাল প্রায়ই ওর দাদুর কাছে এর সম্পর্কে জানতে চায়। তাছাড়া নেহাল ৫ম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র। এই পরিস্থিতিতে তারও মন খারাপ। গত রোযার ঈদে মা-বাবা তাকে নতুন জামা কিনে দেয়নি, এই ঈদেও নতুন জামা দেবে না বলেছে। আবার দুইদিন পর কোরবানির ঈদ। তাই আজ সে তার দাদুকে বলে,

-দাদু, কোভিড-১৯ কী?

-এটা একটি ছোঁয়াচে রোগ।

-ওহহো। তুমি বলতে চাচ্ছ যে, চিকেন পক্স যেমন ছোঁয়াচে, এটাও তেমনি ছোঁয়াছে রোগ?'

-ঠিক ধরেছো। চীনের উহান প্রদেশ থেকে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। যা সাপের মাধ্যমে মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে।

-দাদু, চীন দেশ তো অনেক দুরে। আমাদের এদেশে এ রোগ হলো কিভাবে?

-এ রোগ যেহেতু ছোঁয়াচে সেহেতু সেদেশে অনেক বাঙ্গালি থাকে। তাদের কেউ কেউ বাংলাদেশে চলে আসে আর তাদের মাধ্যমে এ রোগ আমাদের দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

-কী সাংঘাতিক! 

-হ্যা, খুব খারাপ রোগ এই কোভিড-১৯।

-দাদু, কিভাবে এই রোগ ছড়ালো? 

-এই রোগ একটি ছোঁঁয়াচে রোগ। তাই আক্রান্ত ব্যক্তিকে ছুলেই বা তার হাঁচি, কাঁশির মাধ্যমে এ রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। 

-মানে, একজন সুস্থ মানুষ ঐ রোগীর কাছে যেতে পারবে না। 

-ঠিক ধরেছো। এই রোগ হলে গলাব্যথা, জ্বর, সর্দিকাশি ও পাতলা পায়খানাও হয়। অনেক সময় গলার স্বরও ভেঙ্গে যায়। রোগী কথাও বলতে পারে না। যাদের হার্টের সমস্যা আছে, বয়স্ক ব্যাক্তি- এদের এ রোগ হলে বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ে।'

-কী ভয়ানোক রোগ? নেহাল হা-করে দাদুর কাছে এসব কথা শোনে।

-হ্যা। তাই ইউনেস্কো সবাইকে ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। আর ঘরে থেকে আনন্দ করার কথা বলেছে। আর ঈদের আনন্দও ঘরে থেকে করতে বলেছে। ঘরের বাইরে বেরোলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে বলেছে। 

-তাহলে তো দাদু, আমরা কোথাও ঘুরতে যেতে পারব না?

-হ্যাঁ। আমরা এবার বাড়িতে বসে ঈদ করব। তাই, তুমি ঈদের জামা কেনা হয়নি বলে মন খারাপ করবে না।

-আচ্ছা দাদু, আমরা এবার বাড়িতে বসে ঈদের আনন্দ করব।

-অনেক রোগী বেড়েছে তাই মার্কেটেও যাওয়া যাবে না।

-তাই তো। মার্কেটও তো করা যাবে না!

-কী করা যায়, তুমি বলো তো, দাদু ভাই? তোমার তো অনেক বুদ্ধি! 

-আমি একটা সমাধান পেয়েছি?

-কী সমাধান, দাদু ভাই?

-দাঁড়াও, মাকে ডাকি। মা মা, এদিকে আসো তো?

-কি রে খোকা, ডাকছিস কেনো?  হাতে অনেক কাজ আছে। তাড়াতাড়ি বল?

-মা, এবার ঈদে আমরা নতুন জামা কিনব না।

-কেনো কিনবে না?

-করোনার জন্য আমরা কোথাও যেতে পারব না। তাই নতুন জামাও কিনব না।

-তাহলে ঈদের দিন কী পরবে?  

-আমাদের গত বছরের ঈদের জামা আছে না?

-হ্যাঁ আছে তো।

-আমাদের ঐ জামা পরিস্কার করে ইস্ত্রি করে দেবে। আর আমরা ঈদের দিন ঐ পরিস্কার জামা পরে নামাযে যাব। 

মা আর দাদু ভাই অবাক হয়ে যায়।

-এই না হলো আমার দাদু ভাই?

-তাই তো দেখছি! বাবা, আপনার দাদুভাই তো অনেক বড় হয়ে গেছে। সবকিছু বোঝা শিখে গেছে?

-এই না হলো আমার ছেলে? সাবাস বেটা-  বলে বাবা নেহালকে কোলে নিয়ে আদর করল।

ঈদের দিন সকালে মায়ের হাতে পরিস্কার করা জামা পরে নেহাল ওর বাবা আর দাদুর সাথে ঈদের নামায পড়তে যায়। নামায পড়ে এসে মায়ের হাতের রান্না করা পায়েস খায়। সারাদিন বাবা আর দাদুর সাথে অনেক মজা করে। পরিস্কার জামাতেই নেহালের ঈদ আনন্দ কেটে যায়।


0/Post a Comment/Comments

Please do not enter any spam link in the comment box.

Stay connected

FACEBOOK- Fans Like
TWITTER- Followers Follow
YOUTUBE- Subscribers Subscribe

Subscribe us

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner