Meghkonna aar baccha bhoot-sesutosh story-bengali


মেঘকন্যা আর বাচ্চা ভূত,,  

খায়রুল আলম রাজু,,















লুইজা, নাদুসনুদুস বাচ্চা ভূত।ভারি মিষ্টি। দু'দিন হলো উড়তে শিখেছে।এ গাছে-ওগাছে, এখানে-সেখানে  ঘুরে বেড়ায়। কখনো নদীতে,সবুজ মাঠে কিংবা ঝিলের পাড়ে।উড়ে উড়ে নাচে। গান করে। শুধু কি তাই,লুইজা পড়াশোনাও করে ।ওর স্কুল হলো বটগাছটায়। ওখানেই ওর বাড়ি।সকালে পড়ে।বিকেলে খেলে। সন্ধ্যায় অংক কষে।ভুলেও দুষ্টুমি করে না। ঝগড়াঝাঁটি করে  না।মায়ের কথা শুনে।ঠিকঠাক খাবার খায়।পড়ার সময় পড়ে।খেলার সময় খেলে। এজন্য সব্বাই ওকে আদর করে। কপালে চুমু দেয়।লুইজা তখন হাসে। লজ্জায় লাল হয়ে যায়।একদিন লুইজা উড়ছিল। হঠাৎ থমকে দাঁড়ালো। ও দেখলো আকাশে পাখি উড়ে।রকেটে মানুষ চাঁদে যায়। রাতে আকাশে তারা জ্বলে। চাঁদ ওঠে। সোনালি আলো ছড়ায়।কি দারুণ দৃশ্য! পটে আঁকা ছবির মতো। লুইজা তখন ছড়া লিখে...
আকাশ জুড়ে খুশির মেলা
তারার মেলা রাতে!
চাঁদনী রাতে আলোর মেলা
জোনাক জ্বলে সাথে।
                     
সেই থেকে শুরু, আকাশ নিয়ে ওর ভাবনা। আকাশ কেনো নীল?কেনো সূর্য ওঠে। ডুবে। তুলোর মতো মেঘ ওড়ে। ইত্যাদি, ইত্যাদি... একদিন লুইজা পড়ছিল।সকাল তখন। ঝিরিঝিরি বৃষ্টি।টাপুর-টুপুর শব্দ।যেনো কেউ নূপুর পড়ে নাচছে।লুইজা বটগাছটার নিচে এলো।শব্দের আওয়াজ শোনে এদিক-সেদিক  খুঁজলো। হঠাৎ সে সবুজ ঘাসে কাউকে দেখলো। পুরো শরীর মেঘে ঢাকা। হাত পা ধবধবে  সাদা। টুকরো টুকরো মেঘের মতো।চুলগুলো সাত রঙের রংধনু। এলোমেলো।  উসকোখুসকো।লুইজা'কে দেখেই মেয়েটি  ডানা মেললো।আকাশ পানে।লুইজা পিছু ছুটলো।ডানা উড়িয়ে। ছুটতে, ছুটতে লুইজা পথ হারিয়ে ফেললো। সব কিছুই অচেনা লাগে! এখানকার সব কিছু অন্য রকম।ভিন্ন।   পৃথিবী থেকে আলাদা।পুরো দেশটাই ধবধবে সাদা। আকাশটাও। গাছ,মাটি, ফুল, ফল সবকিছুই সাদা । তুলতুলে নরম।লুইজার ভয়  ভয় করছিল!ভয়ে সে কান্না শুরু করলো।হঠাৎ মেঘের গাড়ি চড়ে  একটি লোক এলো। লোকটিও ধবধবে সাদা। টুকরো টুকরো মেঘের মতো।মাথায় বরফের  মুকুট ।
—লুইজা বললো, আপনি কে?
—লোকটি বললো, আমি মেঘরাজা।
আর এটা আমার রাজ্য।
—লুইজা মিষ্টি করে বললো, “এটাই বুঝি মেঘ রাজ্য?”   
—হ্যাঁ,এটাই মেঘ রাজ্য!কিন্তু তুমি এলে কি করে?তুমি তো ভূত ছানা। বাচ্চা ভূত। অনেক ছোট। একা এলে কি করে? 
—আমি ছোট্ট একটি মেয়ের পিছু পিছু এখানে এসেছি। উড়ে উড়ে। আমি ওই পৃথিবীতে থাকি। 
— ওহ,বুঝেছি, তুমি আমার মেঘকন্যা টুটুই এর সাথে এসেছো।সে বৃষ্টি হয়ে প্রায়ই পৃথিবীতে ঘুরতে যায়।পৃথিবীর নদী, সবুজ সবুজ ঘাস,কাশফুল ওর খুব প্রিয়।
— ওই যে দেখ, টুটুই আসছে। ও ভারী দুষ্ট। পড়াশোনা করে না। সারাক্ষণ দুষ্টুমি করে।
টুটুই  এসে লুইজা'কে বললো কে তুমি?নাম কি তোমার?
—আমার নাম লুইজা।আমি পৃথিবী থেকে এসেছি। আমি কি তোমার বন্ধু হতে পারি?
— অবশ্যই, কেনো নয়?  মেঘরাজা বললো ভূত সোনা, টুটুই ও তুমি আজ থেকে বন্ধু। ভালো বন্ধু। কিন্তু টুটুই তো ভারী দুষ্ট। পড়াশোনা করে না! দুষ্টমি করে।টুটুই  লজ্জা পেলো। সে বললো দুষ্টুরা সব পাড়ে।পড়াশোনা করতে হয় না। 
— লুইজা তো চিন্তায় পড়লো! পড়াশোনা ছাড়া কি করে সব কিছু পারা যায়! টুটুই এসো তবে আজ পরীক্ষা হোক।      
— মেঘরাজা বললো কী করে পরীক্ষা হবে?
—লুইজা বললো, আমি টুটুইকে একটি প্রশ্ন করবো, সেও আমাকে প্রশ্ন করবে। যে পারবে সে জয়ী। যে পারবে না সে পরাজিত। 
— বাহ! সুন্দর তো। তাই হোক।  টুটুই বললো আমি আগে প্রশ্ন করবো। বলো তো লুইজা,আকাশ নীল কেনো?
—লুইজা বললো, ”আকাশ হলো গ্যাস ভর্তি ফাঁকা জায়গা।আকাশে বিভিন্ন গ্যাস ভর্তি  থাকায় আকাশ নীল।" 
—মেঘ রাজার উত্তর,  ঠিক বলেছো লুইজা। এবার তোমার প্রশ্ন করো। লুইজা বললো, টুটুই বলো তো 20 থেকে -21 বাদ দিলে কত হয়? 
—টুটুই চিন্তায় পড়লো।20 থেকে -21 বিয়োগ হয় নাকি!  উত্তর মিলে না!
—লুইজা বললো, শুনো টুটুই, এটা হলো বীজগাণিতিক সংখ্যা। এতে 20 হলো ধনাত্মক সংখ্যা আর -21 হলো ঋণাত্মক ।তাই -21 বড় হওয়ায় 20 থেকে -21 বিয়োগ করলে উত্তর হবে -1।             
—মেঘরাজা বললো, দেখলে টুটুই, দুষ্টরা সব পারে না। তাই পড়াশোনা করা জরুরি।পড়াশোনা ছাড়া কেউ-ই বড় হয় না। জীবনে বড় হতে হলে, পড়তে হবে,শিখতে হবে, জানতে হবে। টুটুই এবারও লজ্জা পেলো।          
— সে বললো, বাবা, বাবা আজ থেকে আর দুষ্টুমি করবো না। পড়াশোনা করবো।লুইজা সত্যিই আমার বন্ধু। ভালো বন্ধু। এই নাও লুইজা তোমার পুরষ্কার। বরফের মুকুট । তোমাকে  অভিনন্দন ।             
                           

0/Post a Comment/Comments

Please do not enter any spam link in the comment box.

Stay connected

FACEBOOK- Fans Like
TWITTER- Followers Follow
YOUTUBE- Subscribers Subscribe

Subscribe us

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner