ওরা ঘুমায় কি করে-ছোট গল্প


ওরা ঘুমায় কি করে ?
            এম রাকিব. 


রফিক সাহেব আজ অন্য মনুস্ক হয়ে অফিসে আসলেন। মাথা নিচু করে আস্তে আস্তে তার অফিস কক্ষের দিকে এগিয়ে গেলেন। যা দেখে তার পিএ মতিন অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো। আর মনে মনে ভাবছে, কি ব্যাপার আজ স্যারের কি হয়েছে? এমন তো কখনো দেখিনি।

রফিক সাহেব সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তার দয়া দক্ষিনায় অনেকেরই চাকুরী হয়। তবে সেটা যে এমনি এমনি হয় তা না। যার জন্য অনেক মোটা অংকের টাকা দিতে হয় সবার। রফিক সাবের খুব সুখি পরিবার। এক ছেলে, এক মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে তার সংসার। মেয়ে বড় ১২ বসরের আর ছেলে ৮ বসরের। তার কোনো কিছুতে অভাব নেই। ঢাকা তে তিন টি বাড়ি। ৪ টি গাড়ি। আরো অনেক কিছুই আছে যার কোন হিসাব নেই। সে গুলাও আবার উত্তরা, বনানী, ধানমন্ডির মত জায়গায়। প্রতিটি বাড়িই খুব বিলাসিতার প্রতিক। দেখলে মনে হয় মনের যত টা ইচ্ছে ছিলো সব দিয়ে বানিয়েছে। কোন কিছুর কম রাখেনি।
আর রাখবেনই বা কেন তার ত আর টাকা পয়সার অভাব নেই। সে অফিসে আসে কাজের চাইতে টাকা গননা করতে। তার কাছে মনে হয় টাকা কামানোর মত সুখ হয়ত পৃথিবীতে আর কিছু নেই। যত টাকা হয় তত সুখ হয়।

রফিক সাহেব হয়তো ভুলে গেছেন টাকা কামানোর সুখ আছে তবে সেই টাকা বেশি হয়ে গেলে সুখ হয় কিন্তু শান্তি হয় না।

যাক আসল কথায় ফিরে আসি।

মতিন বসে বসে ভাবছে আজ স্যার কে এত বিষণ্ণ দেখাচ্ছে কেন? স্যারের কি শরীল খারাপ করলো নাকি? নাকি কোথাও কোন গণ্ডগোল হলো। সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে মতিনের ডেস্ক ফোন বেঁজে উঠলো। ওপাশ থেকে রফিক সাহেবের গলা শুনতে পেয়ে আরো চমকে উঠলো। এরকম গলা কখনো শুনেনি আগে মতিন। রফিক সাহেব মতিন কে ভিতরে ডাকলেন।

মতিন প্রতিদিনের মত দু একটি ফাইল সাইন করার জন্য সাথে নিয়ে উঠলো ভিতরে যাওয়ার জন্য। দরজায় নক করে ভিতরে ডুকলেন মতিন।

মতিন দেখতে পেলেন রফিক সাহেব চেয়ারে হেলান দিয়ে দু চোখ উপরে তুলে কি জেনো ভাবছে। যা দেখে মতিন রিতি মত চমকে যায়।  কারণ সে কখনো এমন দেখেননি। মতিন কি বলবে কিছুই ভেবে পাচ্ছে না।

রফিক সাহেব বললেন মতিন এসেছ, বসো।
মতিন যেন নিজের কানে বিশ্বাস করতে পারছে না। কারণ এই প্রথম তাকে বসতে বলা হলো। সে তিন বসর ধরে কাজ করছে রফিক সাহেবের সাথে। তাকে এভাবে বলবে সে কখনো বিশ্বাস করতে পারিনি। মতিন বললো ঠিক আছে আমি দাঁড়িয়ে বেশ ভালো আছি। রফিক সাহেব গলার স্বর টা ভাড়ি করে বললো বসতে বলেছি বসো। মতিন কি করবে ভেবে পাচ্ছে না। স্যার কে আজ মনে হচ্ছে নতুন করে জানতে চিনতে পারছে। মতিন মনের মাঝে দ্বিধা সংকোচ নিয়ে রফিক সাহেবের সামনে চেয়ার টাতে বসলো।

মতিন কি দিয়ে শুরু করবে ভেবে পাচ্ছে না। এই সময় স্যারের মন ভালো নেই। তাই সাথে নিয়ে আসা ফাইল গুলোও দিতে সাহস হচ্ছে না। মতিন সাঁত পাঁচ ভাবতে ভাবতেই রফিক সাহেব বলে উঠলো,
আচ্ছা মতিন কাল যে এক বৃদ্ধ লোক এসে ছিলো মনে আছে।
কোন লোক টা স্যার....
আরে ওই যে তার ছেলের চাকুরি জন্য এসেছিলো
হ্যাঁ স্যার মনে আছে
কি নাম ছিলো জানো তুমি? মনে আছে তোমার?
হ্যাঁ স্যার। ওনার নাম মোক্তার হোসেন। বয়স হবে ৬০-৬৫। ওনার ছেলে এসেস্টেন্ট ইলেকট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ার পদে চাকুরির জন্য এসেছিলেন।
কত টাকা ঘুস নিয়েছিলাম মনে আছে?
মতিনের কাছে মনে হলো সে আঁকাশ থেকে পড়লো। সে ভেবে পাচ্ছে না কি বলবে। স্যার এভাবে সরাসরি ঘুসের কথা টা বলে ফেলবে সে কখনো কল্পনাও করেনি।
আরে চুপ করে আছো কেনো? বলো কি জিজ্ঞেস করলাম।
জ্বী স্যার ১০ লক্ষ টাকা। মতিন একটু কাঁপাকাঁপা গলায় বললো।
জানো মতিন লোকটা যখন আমার সাথে কথা বলে সব কিছু ফাইনাল করে গেলো। আর আমি বললাম বাকি টা আমার পিএর সাথে কথা বলে নিবেন। সে বের হয়ে তোমার রুমের সামনে সোফাতে বসা ছিলো। আমি তার একটু পরে বের হই আমার রুম থেকে।
হ্যাঁ স্যার আপনি একটু পরে বাহিরে চলে গেলেন আমার মনে আছে। মতিন স্যারের কথায় সায় দিলো।

জাবার সময় আমি ওনার দিকে নজর দিয়ে ছিলাম। তার চোখেতে আমার চোখ পরে যায়। সে বসা ছিলো আমাকে দেখে সে দাঁড়িয়ে গেলো। তার দৃষ্টি আমার চোখের মাঝে। আমিও তার তাকিয়ে থাকা দেখে তাকিয়ে ছিলাম। ভেবে ছিলাম কিছু হয়ত বলবে। কিন্তু সে কিছুই বললো না। আমি তার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে চলে গেলাম। যখন সে আমার রুমে বসে আমার সাথে কথা বল ছিলো। তখন ওই ভাবে তার চোখের দিকে তাকানো হয়নি।

স্যার আপনি কি বলছেন কিছুই বুঝতে পারছি না। তার চোখের দিকে তাকিয়ে ছিলেন তো কি হয়েছে।

রফিক সাহেব দীর্ঘ শ্বাস নিয়ে বললেন অনেক কিছু হয়েছে মতিন। যা আমাকে ঘুমাতে দেয়নি।

মতিন মনে মনে ভাবছে তাহলে কি সেই মোক্তার হোসেন এর জন্য আজ স্যারের এই অবস্থা। স্যার কি দেখলো তার চোখের মাঝে যে সে ঘুমাতে পারেনি। মতিনের কৌতূহল আরো বেড়ে গেলো।

রফিক সাহেব বললেন জানো মতিন সে যখন আমার চোখের দিকে তাকিয়ে ছিলো আমিও তার চোখের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। তার চোখ জেনো কি বলছে স্পষ্ট ভাষায় শব্দহীন ভাবে। আমি কিছুই শুনতে পাইনি। তোবুও মনে হচ্ছে সে কিছু বলছে চোখের ভাষায়। যে ভাষা আমার চোখ দিয়ে আমার মন পর্যন্ত পৌছে গেছে। 

তার চোখ দুটি দেখে মনে হয় হাজার বছরের ক্লান্ত। সে জীবনে অনেক কিছু দেখেছে। অনেক ঝড়ঝাপটার মাঝে সে তার জীবন চালিয়েছে। তার চোখ দুটি অনেক কিছুর জীবন্ত সাক্ষী হয়ে বয়ে চলছে। যার দিকে তাকালে মনের অজান্তে নিজের অনেক কিছু প্রকাশ পায়। যা লজ্জা জনক।
মতিন অপলোক দৃষ্টি নিয়ে রফিক সাহেবের কথা শুনছিলেন। আর ভাবছে আজ স্যারের কি হলো এমন ভাবে কথা বলছে কেনো? মতিন আবার এটাও ভাবলো স্যার যা  বললো তা একে বারেই ঠিক। মোক্তার সাহেব যখন টাকা দিলেন আমাকে তখন ব্যাগ থেকে টাকা টা বের করতে তার হাত কাঁপছিলো। আমি তার চোখের দিকে তাকালে আমার ভিতরটাও জেনো কি রকম মোচর দিয়ে উঠে। টাকা টা নেয়ার পর আমার কেনো জেনো মনে হলো তার সাথে দু একটি কথা বলতে। আবার ভাবলাম থাক কি না কি মনে করে ঠিক নেই। কিন্তু আমি আর লোভ সামলাতে পারলাম না। তার সাথে কথা বলার জন্য ভাবলাম। জিজ্ঞেস করলাম..
মোক্তার সাহেব আপনার কয় ছেলেমেয়ে..?
দু ছেলে দু মেয়ে
ও আচ্ছা ভালো। যার জন্য এসেছেন সে কি আপনার বড় ছেলে?
হ্যাঁ ও বড়। তারপর দু মেয়ে, এক ছেলে।
ও আচ্ছা।
মতিন সাহেব চাকুরী টা আমার ছেলের খুব দরকার। এখন ওর উপরের নির্ভর করে সংসার। দু মেয়ে, ছেলে এখনো পড়ালেখা করছে। বড় ছেলের চাকুরীটা হয়ে গেলে আমাদের জন্য অনেক উপকার হয়। তাহলে আমি মরেও শান্তি পাবো। আমি যদি দেখে যেতে পারতাম মেয়ে দুটির বিয়ে হয়েছে তাহলে ভাবতাম আমার জীবনের সব কিছু স্বার্থক হয়েছে। বড় ছেলের চাকুরী না হলে আমাদের মরন। আমার জীবনের কামাই করা সকল টাকা দিতে হলো। যা জমিয়ে রেখেছিলাম মেয়ে দু জনের জন্য।
তাদের বিয়ে সাদি তে কাজে আসবে মনে করে। কিন্তু তার কিছুই রাখতে পারলাম না। মোক্তার সাহেব খুব আক্ষেপ নিয়ে কথা গুলা বলে গেলো। মতিন মনে দিয়ে তার কথা শুনতে ছিলো। কখন যে মতিনের দুচোখ ভিজে উঠলো টের পাইনি।

রফিক সাহেব বললেন কি ভাবছ মতিন। মতিনের হুশ ফিরে এলো। বললো না স্যার কিছু না। জানো মতিন কাল রাতে আমি ঘুম আসতে পারিনি। বারবার শুধু সেই চোখের কথা মনে পরতে থাকে। আমি নিদারুণ ব্যথা অনুভব করছি সারা রাত।

আর যতটুকু ঘুমিয়েছি তার মাঝে দেখলাম এক ভয়ানক স্বপ্ন। শেষ রাতের বেলায় একটু ঘুম এসে যায়।  সেই ঘুমের মাঝেই দেখি স্বপ্ন।

মতিন জিজ্ঞেস করার আগেই রফিক সাহেব বলতে লাগলেন।
জানো মতিন আমি যে স্বপ্ন টা দেখেছি তা কাও কে এখনো বলিনি। এমন কি আমার স্ত্রীকেও না। শুধু তোমাকে বলতেছি।

আমি দেখলাম আমার পরিবার নিয়ে কোন এক বিয়ের অনুষ্ঠানে গেছি। সেখানে সবাই সবার মত কথাবার্তা বলছে। কেউ খাবার খাচ্ছে। কেউ গল্প করছে। হঠাৎ দেখলাম আমার ছেলেমেয়ে শরীলে আগুন লেগেছে। ওদের সারা শরীলে আগুন লেগে আছে।

 আমি চিৎকার করে আগুন আগুন বলছি কিন্তু কেউ শুনছে না। আমি দৌড়ে গিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করি কিন্তু আগুন নিভছে না। আমি হাত দিয়ে যখন নেভাতে যায়ই তখন আরো বেশি করে আগুন লেগে যায়।

আমি চিৎকার করে আমার স্ত্রীকে ডাকছি কিন্তু সে শুনতে পায় না। তার দিকে তাকিয়ে দেখলাম সে তার বন্ধুদের নিয়ে গল্পে মজে আছে। আমার চিৎকার তার কান পর্যন্ত পৌছালো না।

আমি আরো বেশি অবাক হলাম স্ত্রীকে দেখে যে সে এত লকের মাঝে বিবস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার শরীলে কোন কাপড় নেই। সম্পূর্ণ নিবারণ অবস্থায় আছে। আর তাদের সাথে কথা বলে যাচ্ছে।  এই বস্ত্রহীন স্ত্রী কে আরো অনেকই দেখছে। লালসার চোখ দিয়ে তাকে চেটেপুটে খাচ্ছে।

সেই স্বপ্নের মাঝে আমি কিছুই করতে পারিনি। না পেরেছি বাচ্চাদের শরীলের আগুন নেভাতে আর না পরেছি আমার স্ত্রী কে বস্ত্রদিয়ে ঢেকে দিতে। আমি ওখান থেকে দৌড়ে পালানোর জন্য চেষ্টা করি। দৌড়াতে দৌড়াতে আমি যখন হাপিয়ে উঠেছি তখনই আমার ঘুম ভেংগে যায়।

তখন থেকে আমার মনের মাঝে অনেক কিছুর খেয়াল আসছে। খুব খারাপ অবস্থায় আছি সকাল থেকে।

মতিন বললো স্যার স্বপ্ন তো স্বপ্নই সেটা নিয়ে মন খারাপ করার কিছু নেই। সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে।

রফিক সাহেব বললেন,  না মতিন সব স্বপ্নই স্বপ্ন হয় না। এর মাঝেও কিছু কারণ থাকে।

মতিন কি বলবে কিছু বুঝতে পারছে না।

রফিক সাহেব বললেন জানো মতিন আমি আগুন নিভাতে পারিনি কেনো..?
না স্যার জানি না।
কারণ এই হাত দিয়ে আমি অবৈধ ভাবে টাকা কামায় করতেছি বলে। মানুষের কাছ থেকে ঘুসের টাকা। দুর্নীতিরর টাকা নেই বলে আজ আমি আমার বাচ্চাদের বাঁচাতে পারিনি। যখনই আমি হাত দিয়ে আগুন নেভাতে গেছি তখনই আরো বেশি করে আগুন লেগেছে ওদের শরীলে।

আমার স্ত্রীকে বস্ত্রহীন দেখেছি কারণ আমার পাপের পথে কামানো টাকা দিয়ে তার সব কিছু কেনা। তার শরীলে যা কিছু ছিলো তার সব কিছুই পাপের টাকা দিয়ে কেনা। তাই সাবার সামনে তাকে নগ্ন দেখেছি। আর অন্যেরাও তার নগ্ন দেহের স্বাদ নিয়েছে।

মতিন কিছু বলার আগেই রফিক সাহেব বললেন না মতিন তুমি আমাকে বলতে দাও আজ।

আমি জানি আমার সারা জীবন কোন ভালো পথের কামাই ছিলো না। আজ যা কিছু করেছি সবই তার ঘুসের আর দুর্নীতির টাকা দিয়ে গড়া। এমন কি আমার ছেলেমেয়েদের কাপড় থেকে শুরু করে আমার স্ত্রী সব কিছু।

স্যার এসব কি বলছেন। বাদ দিন এই সব। এগুলা আপনার মনের ভ্রান্ত ধারণা শুধু।
এই যে দেখুন না কিছু দিন আগে খবরের কাগজে দেখলাম সহনিয়ো মাত্রায় ঘুস খাওয়ার কথা বলেছে।

রফিক সাহেব একটু রাগের স্বরে বললেন ঘুস তো ঘুসই সেটা আবার সহনীয়ো মাত্রার কি হলো।

আরে যারা বেশি নীতিকথা বলে তারাই বেশি করে দুর্নীতি করে বুঝলে। তুমি একটু চিন্তা করে দেখে আমারা যারা রাজনীতি করি। তারা কম বেশি সব জায়গাতে সভা সমাবেশ করে থাকি। সেখানে কি ধরনের নীতি কথা বলে থাকি। ওমুকে আমার আদর্শ। ওমুকের স্বপ্নের মত গড়তে হবে আমাদের দেশ। ওমুকের আদর্শ বুকে নিয়ে আমাদের চলতে হবে। তার আদর্শ বুকে ধারণ করে ঘুস মুক্ত, দুর্নীতি মুক্ত দেশ গড়তে হবে। প্রতিটি মানুষের তার হক দিতে হবে। আরো কত কি বলে আমাদের ভাষণ শেষ করতে হয়।

দেখো মতিন যার আদর্শের কথা বলি তার ছবি কিন্তু আমার টেবিলের উপরেই আছে। আরো দুজনের ছবি আছে আমার মাথের উপরে ঝুলানো।

আমি যখন ঘুস খাওয়ার কথা বলি, কই তখন তো আমার বুক কাপে না। যে বুকে আমার আদর্শের মানুষ কে রেখেছি। আমার কি তখন মনে পরে ছবির মানুষ গুলি আমাকে দেখছে। আমি যখনি টাকা নেই কই আমার হাত তো কাপে না। যে হাত দিয়ে কত বার আমার আদর্শের মানুষের ছবি কোন জায়গায় উন্মুক্ত করেছি। বা কত জায়গায় দেশের পতাকা উড়িয়েছি।

সব চেয়ে মজার ব্যপার কি জানো মতিন?

যে টাকা টা ঘুস খাই সেই টাকার মাঝেই আদর্শের মানুষটির ছবি আছে। কই একবার ও তো মনে পরে না। এই টাকার মাঝে সেই মানুষ টি আছে যার আদর্শের কথা বলে থাকি।

0/Post a Comment/Comments

Please do not enter any spam link in the comment box.

Stay connected

FACEBOOK- Fans Like
TWITTER- Followers Follow
YOUTUBE- Subscribers Subscribe

Subscribe us

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner